সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদির জমানায় গরিবি রেখার বাইরে আনা হয়েছে ২৪ কোটি ৮২ লক্ষ নাগরিককে। ‘মাল্টিডাইমেনশনাল পভার্টি ইন ইন্ডিয়া সিন্স ২০০৫-০৬’ শীর্ষক রিপোর্টে স্পষ্ট ভাষায় এমনটাই জানিয়েছে নীতি আয়োগ। ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি তা প্রকাশ হওয়ার পর সুযোগ পেলেই এই কৃতিত্বের প্রচার করেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা। কিন্তু লাগাতার এই প্রচারের অন্তরালে কি রয়েছে অন্য উদ্দেশ্য? তবে কি ৮১ কোটি ৩৫ লক্ষ জনতাকে বিনামূল্যে রেশন দেওয়া বন্ধ করে দিতে চলেছে মোদি সরকার? নাকি কমিয়ে দেওয়া হতে পারে গ্রাহক সংখ্যা? আবার আগের মতোই গাঁটের কড়ি খরচ করে কিনতে হবে খাদ্যশস্য? মঙ্গলবার নীতি আয়োগের এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকের আলোচনায় এমনই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Advertisement
মঙ্গলবার নীতি আয়োগে ছিল ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অব মডেল ফেয়ার প্রাইস শপ’ শীর্ষক বিশেষ কমিটির বৈঠক। সেখানেই রেশন দোকানদারদের উপার্জন বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব রাখা হয়। নীতি আয়োগের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ডঃ যোগেশ সুরি বলেন, ‘আপনারা যদি গ্রাহকের থেকে কিলো প্রতি এক থেকে দেড় টাকা নেন, কেমন হয়? তাহলে গ্রাহক প্রতি পাঁচ থেকে সাড়ে সাত টাকা বাড়তি উপার্জন হতে পারে।’ প্রয়োজনে সরকার এব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তাতেই উস্কে গিয়েছে জল্পনা— তবে কি বিনামূল্যে রেশন তুলে দিতে চলেছে মোদি সরকার? সিঁদুরে মেঘ দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। তাদের মতে, নীতি আয়োগের এই প্রস্তাবের মধ্যেই মোদি সরকারের আসল উদ্দেশ্য লুকিয়ে রয়েছে। দোকানদারদের উপার্জন বৃদ্ধির ইস্যুকে ঢাল করে আদতে ফ্রি খাদ্যশস্য দেওয়ার কর্মসূচি বন্ধ হতে পারে।
২০১৩ সালে ডঃ মনমোহন সিংয়ের ইউপিএ সরকারের আমলে কার্যকর হয় ‘জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন।’ সেই আইন অনুযায়ী, গণবণ্টন ব্যবস্থায় কেজি প্রতি তিন টাকায় চাল, দু’ টাকায় গম এবং এক টাকায় দানাশস্য পেতেন গরিব মানুষ। জনপ্রতি পাঁচ কেজি। ‘অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা’র গ্রাহকের পরিবার প্রতি মিলত ৩৫ কিলো খাদ্যশস্য। কিন্তু নিজেকে গরিব দরদি প্রমাণে নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আগামী পাঁচ বছর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মিলবে রেশনের চাল-গম। পাঁচ বছর প্রকল্প চালাতে কেন্দ্রের কোষাগার থেকে খরচ হবে ১১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা। ঘোষণা তো হল, কিন্তু এবার ভর্তুকির ভার সামলাতে সরকার এখন হিমশিম।
এসবের মধ্যেই কমিশন বৃদ্ধি করতে লাগাতার চাপ দিচ্ছেন রেশন দোকানদাররা। বর্তমানে প্রতি কেজি খাদ্যশস্য বিতরণ করে তাঁরা মাত্র ৯০ পয়সা কমিশন পান। সামনেই বাজেট। তাই কমিশন বৃদ্ধির দাবি নিয়ে এদিন কেন্দ্রীয় সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনে’র প্রধান উপদেষ্টা তথা তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু। আসন্ন বাজেটে দোকানদারদের কমিশন বাড়ানোর ব্যাপারে তাঁরা আর্জি জানান শাহের কাছে। এমনকী নীতি আয়োগের ওই বিশেষ কমিটর বৈঠকেও হাজির ছিলেন বিশ্বম্ভরবাবু।
২০১৩ সালে ডঃ মনমোহন সিংয়ের ইউপিএ সরকারের আমলে কার্যকর হয় ‘জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন।’ সেই আইন অনুযায়ী, গণবণ্টন ব্যবস্থায় কেজি প্রতি তিন টাকায় চাল, দু’ টাকায় গম এবং এক টাকায় দানাশস্য পেতেন গরিব মানুষ। জনপ্রতি পাঁচ কেজি। ‘অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা’র গ্রাহকের পরিবার প্রতি মিলত ৩৫ কিলো খাদ্যশস্য। কিন্তু নিজেকে গরিব দরদি প্রমাণে নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আগামী পাঁচ বছর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মিলবে রেশনের চাল-গম। পাঁচ বছর প্রকল্প চালাতে কেন্দ্রের কোষাগার থেকে খরচ হবে ১১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা। ঘোষণা তো হল, কিন্তু এবার ভর্তুকির ভার সামলাতে সরকার এখন হিমশিম।
এসবের মধ্যেই কমিশন বৃদ্ধি করতে লাগাতার চাপ দিচ্ছেন রেশন দোকানদাররা। বর্তমানে প্রতি কেজি খাদ্যশস্য বিতরণ করে তাঁরা মাত্র ৯০ পয়সা কমিশন পান। সামনেই বাজেট। তাই কমিশন বৃদ্ধির দাবি নিয়ে এদিন কেন্দ্রীয় সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনে’র প্রধান উপদেষ্টা তথা তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু। আসন্ন বাজেটে দোকানদারদের কমিশন বাড়ানোর ব্যাপারে তাঁরা আর্জি জানান শাহের কাছে। এমনকী নীতি আয়োগের ওই বিশেষ কমিটর বৈঠকেও হাজির ছিলেন বিশ্বম্ভরবাবু।



