নিজস্ব প্রতিনিধি, গলসি: অপরিচিত কাউকে দেখলেই আঁতকে উঠছে মেয়েটি। ক্ষতি করার জন্য আবার কেউ পরিকল্পনা করছে না তো? এই প্রশ্নই সব সময় মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে বছর ১৬-র নাবালিকার। সেটা হওয়াই স্বাভাবিক। এই বয়সেই তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। অন্ধকার জগৎ কতটা ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে সে বাড়ি ফিরেছে। কাজ পাওয়ার আশায় সে বর্ধমান স্টেশন থেকে অপরিচিত একজনের হাত ধরে অজানা গন্তব্যে পাড়ি দিয়েছিল। পরিচিতজন আশ্বাস দিয়েছিল তাই অপরিচিতর সঙ্গে ট্রেনে উঠতে সে ভয় পায়নি। কিন্তু রাজস্থানে যাওয়ার পর তার ধারণা বদলে যায়।
Advertisement
ওই নাবালিকা বলে, মেয়েদের কেউ এভাবে বিক্রি করতে পারে তা কল্পনাতেই ছিল না। বর্ধমানের এক পরিচিত রমেশ কুমার নামে এক যুবকের সঙ্গে নাবালিকার পরিচয় করিয়ে দেয়। সে রাজস্থানের বাসিন্দা। একটি বেসরকারি সংস্থার আধিকারিক পরিচয় দিয়ে কাজের প্রলোভন দেয়। ভালো ছেলে ভেবে তার সঙ্গে ট্রেনে উঠি। প্রথমে বলেছিল আসানসোলে কাজ পাওয়া যাবে। সেখানে যাওয়ার পর সে জানায়, রাজস্থানে কাজ হবে। মরুরাজ্য সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল না। কতদূরের রাস্তা সেটাও জানতাম না। স্রেফ কাজ পাওয়ার আশায় তার সঙ্গে ট্রেনে উঠি। ওই নাবালিকা আরও বলে, রাজস্থানের নানা এলাকায় পৌঁছে জানতে পারি আমাকে বিক্রি করা হয়েছে। রমেশ অন্য একজনের হাতে আমাকে তুলে দেয়। সে ঘরে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। যৌনদাসী করে রাখা হয়েছিল। ওদের কথা মতো না চললে মারধর করা হতো। একা কখনই বাইরে যেতে দিত না। ওই যুবকের ইচ্ছে হলে সঙ্গে নিয়ে যেত। ঠিকমতো খাবার দিত না। সব সহ্য করতে হতো। মুখ খুললেই অত্যাচার বাড়ানো হতো। নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছিল। বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার জন্য অনেকবার ওদের কাছে অনুরোধ করেছি। তারপরও কথা বলতে দিত না। ওরা কোনও অনুরোধ শুনত না।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রের মাস্টারমাইন্ড রমেশকে রাজস্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি গলসি নিয়ে আসার কথা। দুই বর্ধমানে তার একাধিক এজেন্ট রয়েছে। তাদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে। তারাই নাবালিকাদের মগজ ঢোলাই করে। তার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা কমিশন পায়। গলসির ওই নাবালিকাকে বর্ধমান শহরের এক যুবক রমেশের হাতে তুলে দেয়। ওই নাবালিকার দাবি, বর্ধমান স্টেশনে তার সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়। ওই যুবক নিজে থেকে পরিচয় করে কাজের টোপ দেয়। দু’দিন পরে সে রমেশকে ডেকে পাঠায়। সে আসানসোলে ছিল। সেখানে সে বিয়ে করেছে। মূলত নাবালিকাদের পাচার করার জন্যই সে আসানসোলে ডেরা বাঁধে। রাজস্থানে কিছুদিন থাকার পর আবার সে আসানসোলে ফিরে আসত।
ওই নাবালিকা বলে, রমেশ প্রথম কয়েকদিন তার সঙ্গে রাজস্থানে দেখা করেছিল। তারপর সে আর আসেনি। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে তাকে রাজস্থানে বিক্রি করা হয়। কিছুদিন আগে পুলিস তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। এখন সেই চক্রের সদস্যদের পাকড়াও করতে শুরু করেছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রের মাস্টারমাইন্ড রমেশকে রাজস্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি গলসি নিয়ে আসার কথা। দুই বর্ধমানে তার একাধিক এজেন্ট রয়েছে। তাদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে। তারাই নাবালিকাদের মগজ ঢোলাই করে। তার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা কমিশন পায়। গলসির ওই নাবালিকাকে বর্ধমান শহরের এক যুবক রমেশের হাতে তুলে দেয়। ওই নাবালিকার দাবি, বর্ধমান স্টেশনে তার সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়। ওই যুবক নিজে থেকে পরিচয় করে কাজের টোপ দেয়। দু’দিন পরে সে রমেশকে ডেকে পাঠায়। সে আসানসোলে ছিল। সেখানে সে বিয়ে করেছে। মূলত নাবালিকাদের পাচার করার জন্যই সে আসানসোলে ডেরা বাঁধে। রাজস্থানে কিছুদিন থাকার পর আবার সে আসানসোলে ফিরে আসত।
ওই নাবালিকা বলে, রমেশ প্রথম কয়েকদিন তার সঙ্গে রাজস্থানে দেখা করেছিল। তারপর সে আর আসেনি। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে তাকে রাজস্থানে বিক্রি করা হয়। কিছুদিন আগে পুলিস তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। এখন সেই চক্রের সদস্যদের পাকড়াও করতে শুরু করেছে।



