নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মূল্যবৃদ্ধির আঁচে সামান্য সুরাহার আলোকরেখা দেখা দিয়েছিল। আশা করা হয়েছিল, বর্ষশেষ ও নববর্ষের উপহার হিসেবে পাওয়া যাবে একটি কাঙ্ক্ষিত ঘোষণা। ক্ষুদ্র স্বস্তির বার্তা আসবে জিএসটি কাউন্সিল বৈঠক থেকে। কিন্তু মঞ্চ প্রস্তুত থাকলেও শেষ মুহূর্তে সব আশায় জলে ঢেলে পিছিয়ে গেল বিমা সেক্টরের প্রিমিয়াম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা। শনিবার রাজস্থানে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেছেন, আপাতত জীবন বিমা এবং স্বাস্থ্য বিমায় জিএসটি মকুব কিংবা কমে যাওয়ার প্রস্তাব স্থগিত রাখা হয়েছে। জিএসটি সংক্রান্ত মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠক আবার হবে জানুয়ারি মাসে। অতএব স্বাস্থ্য বিমা ও জীবনবিমার প্রিমিয়ামের উপর জিএসটির বোঝা কমার অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। জিএসটি কমে সাশ্রয়ের আশা যেমন পিছিয়ে গেল, তেমনই আবার নতুন করে জিএসটির বোঝা চাপল আম জনতার উপর। পপকর্নের উপর তিন রকম জিএসটি বলবৎ হচ্ছে। সাধারণ প্যাকেটহীন পপকর্নের জিএসটি ৫ শতাংশ। নোনতা পপকর্ন ১২ শতাংশ। আর প্যাকেটজাত পপকর্নের উপর ১৮ শতাংশ হবে জিএসটি।
Advertisement
আম জনতাকে তিনি বিমানযাত্রী করবেন বলে সভা সমাবেশে ভাষণ দিয়ে থাকেন নরেন্দ্র মোদি। অথচ আম জনতার সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার স্বপ্নে জিএসটির স্পিড ব্রেকার কার্যকর করল জিএসটি কাউন্সিল। ব্যবহৃত গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে জিএসটির হার ১২ থেকে বাড়িয়ে করা হল ১৮ শতাংশ। এই গাড়ির মধ্যে ইলেকট্রিক ভেহিকেলও রয়েছে। অথচ মোদি সরকার সবথেকে বেশি এই বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি ব্যবহারে জোর দেয়। বলা হচ্ছে সাধারণ মানুষ যদি একে অন্যকে ব্যবহৃত সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি বিক্রি করে সেক্ষেত্রে জিএসটির এই হার প্রযোজ্য নয়। এই হার প্রযোজ্য হবে ব্যবসায়িক স্বার্থে যারা গাড়ি কিনবে এবং কোনও বাণিজ্যিক সংস্থা থেকে যাঁরা কিনবে। একথা বলা হলেও আদতে আম জনতার কাঁধেই চাপবে এই বোঝা। কারণ আম আদমির একটি বড় অংশই সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি ডিলারের থেকে কেনে। সুতরাং বর্ধিত জিএসটি আদতে তার উপরই চাপবে।
জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে সবথেকে বেশি বিতর্ক হয়েছে এয়ার টারবাইন ফুয়েল নিয়ে। যে জ্বালানিতে বিমান চলে সেই এটিএফ জিএসটির আওতায় নয়। কেন্দ্রীয় কর এবং রাজ্যের ভ্যাট এই জ্বালানির উপর বলবৎ রয়েছে। কেন্দ্র চাইছে এটিএফকে জিএসটির অধীনে নিয়ে আসতে। কিন্তু শনিবারের বৈঠকে এই প্রস্তাবকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করেছে প্রায় সব রাজ্য। কারণ রাজ্যগুলির আশঙ্কা এভাবে রাজ্যের আয় ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভ্যাট বাবদ যে আয় হয় সেটা রাজ্যের লাভ। আর জিএসটি হলে কেন্দ্র রাজ্য বিভাজিত হয় আয়। সুতরাং রাজ্যগুলির সম্মিলিত বাধাদানে ওই প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে কেন্দ্র।
জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে সবথেকে বেশি বিতর্ক হয়েছে এয়ার টারবাইন ফুয়েল নিয়ে। যে জ্বালানিতে বিমান চলে সেই এটিএফ জিএসটির আওতায় নয়। কেন্দ্রীয় কর এবং রাজ্যের ভ্যাট এই জ্বালানির উপর বলবৎ রয়েছে। কেন্দ্র চাইছে এটিএফকে জিএসটির অধীনে নিয়ে আসতে। কিন্তু শনিবারের বৈঠকে এই প্রস্তাবকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করেছে প্রায় সব রাজ্য। কারণ রাজ্যগুলির আশঙ্কা এভাবে রাজ্যের আয় ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভ্যাট বাবদ যে আয় হয় সেটা রাজ্যের লাভ। আর জিএসটি হলে কেন্দ্র রাজ্য বিভাজিত হয় আয়। সুতরাং রাজ্যগুলির সম্মিলিত বাধাদানে ওই প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে কেন্দ্র।



