নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নৈহাটিতে বড়মার মন্দিরে ভক্তস্রোত অব্যাহত। তার মধ্যেই আজ, সোমবার ফুলের সাজে সজ্জিত হয়ে মায়ের নিরঞ্জন। সেই মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করতে লাক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হবে। তাই রবিবার থেকেই ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে পুলিস ও প্রশাসন। যে কোনও ধরনের অঘটন বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর তারা। আজ এক হাজার পুলিসকর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি অন্যান্য পদক্ষেপ করা হয়েছে। গত কয়েকদিনে নৈহাটির বড়মাকে ঘিরে ভক্তদের আবেগের বিস্ফোরণের সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী। কাতারে কাতারে ভক্তদের ভিড় কার্যত জনসুনামির চেহারা নিয়েছিল। সোমবারও অরবিন্দ রোড সহ আশপাশের এলাকায় কয়েক লক্ষ ভক্ত জড়ো হবেন নিরঞ্জন পর্বের সাক্ষী থাকতে।
Advertisement
এদিন সকাল থেকে নিয়ম মেনেই মায়ের পুজো শুরু হবে। চিরাচরিত রীতি মেনে ছেলেরা বড়মাকে বরণ করবে। মাকে সাজানো হবে ফুলের সাজে। ব্যাঙ্কের লকারে জমা করা হবে মায়ের সোনা-রুপোর যাবতীয় অলঙ্কার। তারপর বিকেল ৪টে নাগাদ বড়মাকে মণ্ডপ থেকে নৈহাটি ফেরিঘাটে নিয়ে যাওয়া হবে। অরবিন্দ রোড ধরে বড়মা’কে যখন নিয়ে যাওয়া হয়, তখন রাস্তার দু’ধারের বাড়িঘর থেকে বাতাসা ছোড়ার রীতি রয়েছে। এবার মন্দির কর্তৃপক্ষ সেই রেওয়াজ পরিবর্তন আনতে চায়। তাই রাস্তার দু’পাশের বাড়িগুলিতে এদিন সকাল থেকেই ফুল বিলি করা হবে। বাতাসার বদলে তাদের পুষ্পবৃষ্টি করতে বলা হয়েছে। কিন্তু এই আবেদনে এতদিনের রেওয়াজ আদৌ বদলাবে কি না, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। রীতি মেনে বড়মার বিসর্জনের পরই নৈহাটির অন্যান্য কালী প্রতিমার নিরঞ্জন পর্ব শুরু হবে। সবটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কড়া পুলিসি নজরদারি রাখা হবে। বারাসত কমিশনারেটের পুলিস কমিশনার অলক রাজোরিয়া বলেন, ‘বড়মার বিসর্জনে প্রচুর ভক্ত আসেন। ভিড়ের মধ্যে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য হাজারের বেশি পুলিসকর্মী মোতায়েন রাখা হবে। গঙ্গাবক্ষেও নজরদারি চলবে। ওয়াচটাওয়ার তৈরি রয়েছে। সবাইকে মায়ের বিসর্জন দেখার সুযোগ করে দিতে অরবিন্দ রোডে চারটি জায়ান্ট স্ক্রিন লাগানো হয়েছে।’



