নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের সব মানুষকে বিমা পরিষেবার আওতায় আনার বিষয়ে প্রচার করছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। কিন্তু সেই লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়া কতটা সম্ভব, পরোক্ষে সেই প্রশ্নই তুলে দিলেন খোদ কেন্দ্রীয় কর্তা। বিমা শিল্পে যে এখনও অনেক পদক্ষেপ করা দরকার, তা বুঝিয়ে দিলেন তিনি। সম্প্রতি বণিকসভা সিআইআই আয়োজিত বিমা সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস বিভাগের ডিরেক্টর মন্দাকিনী বালোধি। সেখানে তিনি জানান, বিশ্ববাসীর বিমার আওতায় থাকার হার ৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনে সাতজন বিমাকৃত। এই পরিসংখ্যান থেকে অনেকটাই পিছিয়ে আমাদের দেশ। ভারতে বিশেষত গ্রাম ও আধা শহুরে এলাকাগুলিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিমা কেনার প্রবণতা অনেকটাই কম। এর অন্যতম কারণ, বিমা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা না থাকা। পাশাপাশি, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত জ্ঞান বা সাক্ষরতার হার কম থাকাও একটি কারণ। তাঁর কথায়, ‘এখন যেভাবে জলবায়ু পরিবর্তন এবং সাইবার হানার মতো সমস্যাগুলি বিমা শিল্পের সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ, তেমনই বড় চ্যালেঞ্জ বিমা গ্রহীতা ও বিমা সংস্থার পারস্পরিক আস্থাহীনতা এবং বিমার টাকা আদায় বা ক্লেম ইস্যু।’ বিমা কেনার পর ক্লেম দাবি করার সময় সেই টাকা মেটাতে অনেকটাই বেশি সময় নেয় বিমা সংস্থাগুলি। টাকা মেটানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবও থাকে। এগুলি বিমা শিল্পেরই মারাত্মক ক্ষতি করে বলে মনে করেন তিনি। আরও বলেন, ‘এই সঙ্কট কাটাতে বিমা শিল্পের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষের একসঙ্গে বসে সমাধানসূত্র বার করা দরকার। তবেই ২০৪৭ সালের মধ্যে সবাইকে বিমার আওতায় আনা সম্ভব।’ এদিন বিমা শিল্পে প্রযুক্তিগত ব্যবহার বাড়ানো এবং সচেতনতা বৃদ্ধির হয়ে সওয়াল করেন তিনি।
Advertisement
মন্দাকিনী বালোধি আরও দাবি করেন, ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা দিতে ২৯ অক্টোবর থেকে বয়ঃবন্দনা কার্ডে নথিভুক্তিকরণ শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক নাম তুলেছেন। তাঁদের মধ্যে চার লক্ষ মহিলা রয়েছেন। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী জীবনজ্যোতি বিমা যোজনায় ২১ কোটি ৫২ লক্ষ মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনায় সেই সংখ্যা ৪৭ কোটি ২৮ লক্ষ।



