সংবাদদাতা, বজবজ: ঠাকুরপুকুর মহেশতলা ব্লকের চট্টায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি জাল দলিল তৈরি করে দখলের অভিযোগ উঠেছিল। সেখানে কয়েক কাঠা জমিতে বহুতল তৈরি করে ৬৬টি দোকান তৈরির পর তা লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা পরিষদের অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) ও সচিবের নির্দেশে তদন্ত হয়। সেই তদন্তে একই তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর অতিরিক্ত জেলাশাসক ও সচিব হতবাক। অতিরিক্ত জেলাশাসকের অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রিপোর্টে তদন্তকারী টিম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, চট্টার ওই জমি জেলা পরিষদের। নথি ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করে তা নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। এখন জেলা পরিষদ দখলদারকে নোটিস ধরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাম আমলের এই জমি কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। সেই সময় জেলা পরিষদকে অন্ধকারে রেখে ওই জমির ৯৯ বছরের লিজ বাবদ ভুয়ো দলিল তৈরি করা হয়। ২০০৫ সালে শেষ হয় গোটা প্রক্রিয়া।
Advertisement
তদন্তকারী টিম জমি দখলকারীর থেকে যে সমস্ত নথি চেয়েছিল, তা যাচাই করে দেখা যাচ্ছে, ওই জমির জাল নথি তৈরি করে একটি বেসরকারি সংস্থার নামে রেকর্ড করা হয়েছিল। সেই জাল পরচার ভিত্তিতে দলিল তৈরি হয়। এ ব্যাপারে তৎকালীন ব্লক ভূমিসংস্কার অফিসের কারও কারও যোগসাজশ ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তা না হলে কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি হাতানো সম্ভব হতো না। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই জমি জেলা পরিষদের নামে বহু বছর আগে অধিগ্রহণ হয়েছিল। সেই নথি ন্যাশনাল লাইব্রেরির রেকর্ড রুম ঘেঁটে উদ্ধার হয়েছে। তারপর সেই জমি অন্য কোনও সংস্থা ও ব্যক্তিকে হস্তান্তর করা হয়নি। তা জেলা পরিষদেরই রয়েছে। কয়েক বছর আগে জেলা প্রশাসনের কর্তারা এমনই রিপোর্ট দিয়েছিলেন। কিন্তু তা ধামাচাপা পড়ে যায়।



