


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সাধারণতন্ত্র দিবস ঘিরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদ জেলাতেও পুলিশ এবং জিআরপি সর্বত্র নজরদারি চালাচ্ছে। গত একবছরে সামশেরগঞ্জ, সূতি, বেলডাঙা, শক্তিপুর বারবার উত্তপ্ত হয়েছে। তাই এবার প্রজাতন্ত্র দিবসে পুলিশ ও গোয়েন্দারা বাড়তি তৎপর রয়েছেন।
গোয়েন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের আইএসআই ও জইশ-ই-মহম্মদ যৌথভাবে ‘অপারেশন ২৬-২৬’ কোডনেমে ভারতে হামলার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছে। সেজন্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে হাই অ্যালার্ট জারি করে বাড়তি নজরদারি চলছে।
সপ্তাহখানেক আগেই অশান্তিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। জাতীয় সড়ক অবরোধের পাশাপাশি রেললাইনে হামলা চলেছে। তাই রেলপুলিশের তরফে বাড়তি বাহিনী পাঠানো হয়েছে। বহরমপুর, বেলডাঙা, রেজিনগর সহ সমস্ত স্টেশনের প্লাটফর্মে প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে থেকে বাড়তি নজরদারি চলছে। রবিবার সকাল থেকে বিভিন্ন যাত্রীদের ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়। সেইসঙ্গে স্নিফার ডগ দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায় রেলপুলিশ।
জাতীয় এবং রাজ্য সড়কে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রবিবার দিনভর বিভিন্ন রাস্তায় নাকা তল্লাশি চলে। সোমবার বহরমপুরের প্রাণকেন্দ্র ব্যারাক স্কোয়ার ময়দানে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন জেলাশাসক এবং জেলার পুলিশ সুপার। সেই অনুষ্ঠানের আগে পুরো মাঠ এবং আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। কয়েকশো পুলিশকর্মী ও জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা সার্কিট হাউস ও ব্যারাক স্কোয়ার ময়দানে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফও টহলদারি বাড়িয়েছে। পুলিশের সঙ্গে জলসীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শীতের রাতে খোলা সীমান্ত দিয়ে যাতে অনুপ্রবেশ না হয়, সেজন্য জওয়ানরা বাড়তি তৎপর রয়েছেন। নাইট ভিশন বাইনোকুলারে চোখ রেখে রাতভর সীমান্তে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রোখার চেষ্টা করছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, আমরা সবসময় তৎপর থাকি। সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে বাড়তি অ্যালার্ট আছি। রাতে ও ভোরের দিকে যাতে কোনও দুষ্কৃতী অনুপ্রবেশ বা চোরাচালানোর চেষ্টা না করে-সেজন্য কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে।