


সংবাদদাতা, রানাঘাট: শনিবার সকালে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে উদ্বোধন হল ব্লাড ব্যাংকের। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের সহায়তায় প্রায় কোটি টাকা খরচে তৈরি হয়েছে এই ব্লাড ব্যাংক। আগামী সোমবার থেকেই এই ব্লাড ব্যাংক চালু হয়ে যাবে। এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রঞ্জিত দাস, শান্তিপুর হাসপাতালের সুপার তারক বর্মন, বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী, বিডিও সব্যসাচী রায় প্রমুখ।
বিধায়ক বলেন, শান্তিপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক তৈরি হোক। প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মানুষের বসবাস এই শান্তিপুরে। শহর ছাড়াও গ্রামের মানুষের জন্য খুবই দরকার ছিল এই ব্লাড ব্যাংকের। রক্তের চাহিদা পূরণের জন্য শান্তিপুরের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ব্লাড ব্যাংক তৈরির জন্য একাধিকবার আন্দোলন এবং প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে। বিধায়ক হওয়ার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
পাশাপাশি তিনি বলেন, এই ব্লাড ব্যাংক হওয়ায় শান্তিপুর হাসপাতাল থেকে রোগী রেফারের সংখ্যা অনেকটাই কমবে। আমি শান্তিপুর ও রানাঘাট হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান। রানাঘাট হাসপাতাল ইতিমধ্যেই সেরার শিরোপা পেয়েছে। আর এই ব্লাড ব্যাংক তৈরি হওয়ায় শান্তিপুর হাসপাতালের মুকুটে আরও একটি পালক জুড়ল। যদি আবার সুযোগ পাই তাহলে শান্তিপুরবাসীকে এমআরআই থেকে এন্ডোস্কপির জন্য আর বাইরে যেতে হবে না। এই হাসপাতালেই হবে। এতে চিকিৎসা পরিষেবায় আমুল পরিবর্তন ঘটবে। জেলা মূখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রঞ্জিত কুমার দাস জানান, এই ব্লাড ব্যাঙ্কে আপাতত দশ জন স্টাফ নিয়োগ করা হয়েছে, সোমবার থেকেই পরিষেবা শুরু ও ক্যাম্পের বুকিং শুরু হবে, তবে আমরা চাইছি শুরুতে হাসপাতালের কর্মীদের নিয়ে একটি ইনহাউস ক্যাম্পের মাধ্যমে শুরু করতে, পাশাপাশি দালাল চক্র রোধে ও সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য ব্লাড ব্যাঙ্কের বাইরে বোর্ডে প্রতিদিনের কোন গু্রপের রক্তের কতোটা সংরক্ষণ রয়েছে তা দেওয়া থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপুরে ব্লাড ব্যাঙ্কের জন্য লড়াই আন্দোলন করে এসেছে শহরের একাধিক সামাজিক সংগঠন, এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একাধিক সামাজিক সংগঠনকে সন্মানিত করা হয়,পাশাপাশি এই ব্লাডব্যাঙ্ক তৈরি হওয়ায় তারাও খুশি।