নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাজ্য রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২১ জুলাই মেগা কর্মসূচি নিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। সেই কর্মসূচির প্রস্তুতি বৈঠক ঘিরে অশোকনগরে কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের উপস্থিতিতেই ব্লক সভাপতিকে অপমানের অভিযোগ উঠল দলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভানেত্রী (গ্রামীণ) ইন্দ্রাণী দত্ত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। বৈঠক শেষ হতে না হতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় কর্মীদের একাংশ। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সভাস্থল। জানা গিয়েছে, শনিবার অশোকনগর গোলবাজারে জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল। প্রধান বক্তা ছিলেন প্রদেশ সভাপতিই। উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী। বৈঠক শুরুর আগে সভাকক্ষে ঢুকেই দেওয়ালে টাঙানো দলের ফ্লেক্স নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা সভানেত্রী ইন্দ্রাণীদেবী।
অভিযোগ, শুভঙ্করবাবুর সামনেই তিনি এক যুব কংগ্রেস নেতাকে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করেন। এনিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণ পর ওই যুবনেতা পালটা প্রতিবাদ জানালে তাঁকে সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। এক সময় হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে উপস্থিত নেতাদের দাবি। বিতর্ক আরও বাড়ে সংবর্ধনা পর্বে। প্রদেশ সভাপতিকে সংবর্ধনা জানানোর পর সঞ্চালক অশোকনগর ব্লক সভাপতি তথা সদ্যসমাপ্ত হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব ভট্টাচার্যকে পুষ্পস্তবক দেওয়ার ঘোষণা করেন। অভিযোগ, সেই সময় মঞ্চ থেকেই জেলা সভানেত্রী আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘বৈঠকে উপস্থিত সব সভাপতিকে সংবর্ধনা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রণব ভট্টাচার্যকেও আলাদা করে সংবর্ধনা দেওয়া হবে না।’
তাঁর ওই মন্তব্যের পরই সভাকক্ষে অসন্তোষ আরও তীব্র আকার নেয়। অপমানিত বোধ করে প্রণববাবু সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে হাবড়া ব্লক থেকে আসা একাধিক কর্মীও সভাস্থল ত্যাগ করেন। বৈঠক শেষ হওয়ার পর জেলা সভানেত্রী গাড়িতে উঠতে গেলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় দলীয় কর্মীদের একাংশ। অভিযোগ, সেখানেও উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। তবে ঘটনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তিনি বলেন, ‘কোনো গোলমাল হয়নি। দলীয় কর্মীদের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। কিছু কর্মী তাঁদের মতামত ও পরামর্শ জানিয়েছেন মাত্র।’