Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

বালখিল্য ব্যাটিং! গম্ভীরের কোচিংয়ে ২৪ বছর পর ‘লজ্জার হোয়াইটওয়াশ’

বালখিল্য ব্যাটিং! গম্ভীরের কোচিংয়ে ২৪ বছর পর ‘লজ্জার হোয়াইটওয়াশ’
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সোমনাথ বসু, কলকাতা: গৌতম এখন সত্যিই গম্ভীর। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশের পর তিনি এখন নিশ্চয়ই মুখ লুকানোর জায়গা খুঁজতে ব্যস্ত। হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন, কোটিপতি লিগ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্পূর্ণ আলাদা ঠাঁই। এখন একটু লজ্জা হওয়া উচিত তাঁর। কারণ, ঘরের মাঠে এই ব্যর্থতার দায় কোচকে নিতেই হবে। বিশেষত এই বালখিল্য ব্যাটিংয়ের। সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভারত তুলেছিল মাত্র ৪৬ রান। পরের ইনিংসে সরফরাজ খানের ১৫০ রানের সৌজন্যে টিম ইন্ডিয়ার সংগ্রহ ৪৬২। আর তারপর রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলি সমৃদ্ধ ব্যাটিং লাইন আপের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। ১৫৬, ২৪৫, ২৬৩ এবং ১২১ রানে গুটিয়ে গিয়েছে গম্ভীর-সেনা। মিচেল স্যান্টনার, আজাজ প্যাটেলরা হয়ে উঠেছেন মুত্তাইয়া মুরলীধরন কিংবা শেন ওয়ার্ন। প্রশ্ন উঠছে, এই আয়ারাম-গয়ারাম ব্যাটারদের কি কোচ কোনও পরামর্শই দেননি? স্পিন সহায়ক পিচে ফ্রন্টফুট কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা জানেনই না অধিকাংশ ভারতীয় ব্যাটার! বিস্তর ভুল রয়েছে শট নির্বাচনে। তাই গোটা সিরিজে বিপক্ষ স্পিনাররা জুজু হয়ে দাঁড়িয়েছেন। গম্ভীরের উচিত, অবিলম্বে সুনীল গাভাসকরের শেষ টেস্ট ইনিংসের ভিডিও ছেলেদের দেখানো। ১৯৮৭’র মার্চে বেঙ্গালুরুতে ইকবাল কাসিম-তৌসিফ আহমেদের বিরুদ্ধে একা কুম্ভ হয়ে উঠেছিলেন সানি। ভারত হারলেও তাই ভাঙা পিচে তাঁর ৯৬ রানের ইনিংস এখনও স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে। ২৬৪টি বল খেলেছিলেন গাভাসকর। আর রবিবার ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে গেল মাত্র ১৬৫ বলে! অর্থাৎ টি-২০ ফরম্যাটে ঝড় তোলা ব্যাটাররা ধৈর্য হারিয়েছেন। টেস্টের ধ্রুপদী ইনিংস তাঁদের কাছ থেকে আশা করাই অনুচিত। 
Advertisement
ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপের দুই মহারথী—অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে ক্যাপ্টেনের সংগ্রহ ২, ৫২, ০, ৮, ১৮ এবং ১১। বিরাটও খুব একটা পিছিয়ে নেই (০, ৭০, ১, ১৭, ৪ এবং ১)। দু’জনেই গ্রেট। ভারতকে বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন। কিন্তু বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রিফ্লেক্স কমেছে। ফুটওয়ার্ক আর আগের মতো নেই। অথচ শট নেওয়ার আত্মবিশ্বাসটা একইরকম! বছর দুয়েক আগে দু’জনেই যে ডেলিভারিকে অনায়াসে বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে পারতেন, এখন সেটাই হয়েছে মৃত্যুফাঁদ। এই ভুলগুলো শুধরে দেওয়াই তো কোচের কাজ। আর ব্যাটিং লাইন আপ ঠিক করা। যে সরফরাজ দেড়শো রানের ইনিংস খেলল, তাকে কখনও চার, কখনও ছয়, কখনও আট নম্বরেও নামালেন কোচ। কেন? আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিতে? টেস্টে ব্যাটিং খেলোয়াড়ের কাছে সাসপেন্স থ্রিলার নাকি? 
গায়ে তাঁর বিজেপির ট্যাগ। প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি বলে কথা! বিসিসিআই কর্তাদের খোসামোদে ভিজিয়ে কোচ হওয়াটা তো তাঁর বাঁহাতের খেলই হবে। কিন্তু তারপর? প্রথমে শ্রীলঙ্কার কাছে ওয়ান ডে সিরিজ হার। আর টেস্টে নিউজিল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ। পাঠকদের মনে রাখতে হবে, রাহুল ‘ডিপেন্ডেবল’ দ্রাবিড়ের জুতোয় তিনি পা গলিয়েছেন। তাই তাঁর দায়িত্ব আরও বেশি। কিন্তু তিনি বক্তব্যে সচল, কর্তব্যে অচল। 
ক্রিকেট আলোচনায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে যে, ভারতীয় ব্যাটাররা সাদা বলের ক্রিকেটকেই ধ্যানজ্ঞান করেছেন। অর্থের প্রাচুর্য, গ্ল্যামার তো সেখানেই। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটই তো গুড আর গ্রেটের পার্থক্য তৈরি করে। এই প্রসঙ্গে সৌরভ গাঙ্গুলির মুখে শোনা একটি ঘটনা পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার লোভ সামলাতে পারছি না। এক আড্ডায় ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম ক্ষুরধার মস্তিষ্ক বলছিলেন, ‘রাহুল দ্রাবিড়কে দেখে অনেক কিছু শেখার আছে। একদিনের সিরিজের পর টেস্ট। মাঝের দিনগুলিতে ও নিজেকে পরিকল্পনামাফিক বদলে নিত। ওয়ান ডে’র সময় যদি প্রাতরাশ শেষ করতে দশ মিনিট লাগত, তাহলে ওই পর্বে সেই মেয়াদ দাঁড়াত কুড়ি মিনিটে। শুধু খাওয়া নয়, দৈনন্দিন কাজেও রাহুল নিজেকে শ্লথ করে দিত। টেস্টের জন্য এভাবেই নিজেকে তৈরি রাখত। আমি জানি, কোচ হওয়ার পর ছেলেদের এই ধরনের পরামর্শ দিতে রাহুল কার্পণ্য করত না।’
কিন্তু মিস্টার দ্রাবিড়, আপনার সিংহাসনে যিনি বসেছেন তাঁর এত ধৈর্য কোথায়? তিনি তো তোষামোদে এবং বিতর্কে জড়াতেই ব্যস্ত। তাই ২৪ বছর (২০০০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ০-২ ব্যবধানে হার) পর দেশের মাটিতে হোয়াইটওয়াশের পরেও গৌতম নির্বিকার। থুড়ি গম্ভীর।
আউট ক্যাপ্টেন...। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টের শেষ ইনিংসে প্যাভিলিয়নে ফিরছেন রোহিত শর্মা। -পিটিআই
সম্পর্কিত সংবাদ