Bartaman Logo
২০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের প্রতিবাদে মাইকিংয়ে ‘না’ অন্ধ ঘোষকের

আসানসোলে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন অন্ধ ঘোষক নইম বারি। তাঁর সাহসী সিদ্ধান্ত শহরবাসীর মনে রেখাপাত করেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের প্রতিবাদে মাইকিংয়ে  ‘না’ অন্ধ ঘোষকের
  • ২০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তিওয়ারি, আসানসোল: প্রতিবাদ করতে কলজের জোরই যে আসল, আর কিচ্ছু লাগে না তা প্রমাণ করে দিলেন আসানসোলের দিন আনা দিন খাওয়া অন্ধ ঘোষক নইম বারি। এক জটিল রোগে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। অপরের সাহায্য নিয়ে হাঁটাচলা করেন। কিন্তু ঘোষক হিসাবে অতুলনীয়। তাই পুরসভা ও হোক জেলা প্রশাসন, কোনো এলাকায় জরুরি বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা করতে ডাক পড়ে নই঩মের। টোটো করে দিনভর মাইকিং করতে থাকেন তিনি। অন্ধ নইমের এই সামান্য রোজগারেই চলে সংসার। সেই সামান্য রোজগারের ডাক তিনি হেলায় ফেরালেন বিবেকের তাড়নায়।  নইম অন্ধ হলেও অনুভূতি প্রবণ। তাই করোনা কালে নিজের উদ্যোগেই মাইক নিয়ে মানুষকে সতর্ক করতে বেরিয়ে পড়েছিলেন। সেই নইমই ঘোষকের কাজ করতে অস্বীকার করলেন! পুনর্বাসন না দিয়েই হটন রোডে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এটাই নইমের প্রতিবাদের ভাষা। পুরসভা থেকে ডাক এসেছিল নইমের কাছে। পুরকর্তারা জানান, উচ্ছেদের আগে মানুষকে সচেতন করতে কী বলতে হবে। বলতে হবে, ‘নিজের দোকান গুটিয়ে না নিলে বুলডোজার গুঁড়িয়ে দেবে দোকান।’ সব শুনে নইম জানতে চেয়েছিলেন, ফুটপাত ব্যবসায়ীরা পুনর্বাসন পাবে? জবাবে যখন তিনি জানলেন, পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদ হবে। তখনই ‘না’ বলেন নইম। নইমের এই সিদ্ধান্ত সাড়া ফেলেছে আসানসোলে। ফুটপাত ব্যবসায়ীদের মুখে মুখে ফিরছে তাঁর নাম। আসানসোলের মুন্সি বাজারের জীর্ণ এক বাড়িতে থাকেন নইম বারি। পুরনো ভূতুড়ে বাড়ির ভেতর অভাবের ছাপ স্পষ্ট। দাদা জসিম বারির হাত ধরে হাঁটাচলা করেন নইম। তিনি বলেন, আমি গরিব, ‘মাইকিং করেই সংসার চলে। পুরসভার মাইকিং করার জন্য‌ কখন ডাক আসবে তার অপেক্ষায় থাকি। গত সপ্তাহে পুরসভা ডেকেছিল। খুব খুশি হয়েছিলাম, মাইকিং করে টাকা রোজগার করব এই আশায়। তারপর যখন শুনলাম গরিবদের দোকান উজাড় করার ঘোষণা করতে হবে মা‌঩ইকে, আমার মন সাথ দিল না। এক জন গরিব হয়ে গরিবের ঘর ভাঙার ফরমান কী করে দেব। তাই আমি এই কাজ করব না বলে জানিয়ে দিয়েছি। জানি এর জন্য আমার উপর কোপ আসতে পারে। তবু ভয় পা‌ই না। উপরওয়ালা সব সামলে নেবেন।’ নইম বারির পূর্বপুরুষরা ছিলেন আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল। ১৮৮৪ সালে বড় বাড়ি নির্মাণ করেন তাঁরা। পরবর্তী প্রজন্ম কর্মঠ না হওয়ায় এখন দরিদ্র। নইম বন্ধুর নাইটির দোকানে হ্যান্ড মা‌‌ইক নিয়ে নাইটির আর্কষণীয় অফার ঘোষণা করতেন। ২০২০ সালে তাঁর জীবনের দিক পরিবর্তন হয়। করোনায় যখন সবাই ঘর বন্ধ তখন সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইক হাতে সমাজসেবা করতে বেরিয়ে পড়েন নইম। মানুষকে সচেতন করতে থাকেন। নইমের এই কাজ অনেকের নজরে পড়ে। একশো শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন নইম তারপরও তাঁর বাচনভঙ্গি শহরবাসীর মনে ধরে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় ঘোষক হিসাবে ডাক আসতে থাকে। রোজগারও হতে থাকে। হটন রোডের হকার মহম্মদ সারাফৎ কুরেশি বলেন, নইম বারির এই সিদ্ধান্ত আজীবন আমাদের স্মরণে থাকবে। চারদিন হল দোকান হারিয়েছি। আমাদের অবস্থার সুযোগ নিয়ে দোকানের মালিকরা ইচ্ছে মতো ভাড়া চাইছে। কী ভাবে সংসার চলবে জানি না।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ