সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ: পণ্য পরিবহণ নিয়ে জটিলতা এখনও মেটেনি। তারই মধ্যে বোল্ডারের দাম না কমালে ব্যবসা স্থগিত রাখার হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ। ওপারের ওই ধরনের হুমকির জেরে বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধের আশঙ্কা করছেন ভারত ও ভুটানের ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে ভারত থেকে প্রতি টন বোল্ডার ১০ ডলার ও ভুটান থেকে ১৬ ডলারে ক্রয় করছে বাংলাদেশ। কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে এই বোল্ডার আমদানি করে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের বুড়িমারি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা সম্প্রতি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁরা এখন থেকে ১৬ ডলারে ভুটানের বোল্ডার কিনতে নারাজ। পরিবর্তে ভুটানের তোর্সার বোল্ডার টন প্রতি ১৫ ডলার ও সামসির বোল্ডার টন প্রতি ১৪ ডলারে কিনতে প্রস্তুত। তাছাড়া ভারত থেকে টন প্রতি ১০ ডলারে যে তোর্সা বোল্ডার আমদানি করছে, সেটা ১০ ডলারেই কিনবে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুসারে বোল্ডারের দাম ভুটান না কমালে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বাণিজ্য বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ ট্রাক পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি হলে তারমধ্যে ৩০০টিরও বেশি বোল্ডার বোঝাই ট্রাক থাকে। তাই বোল্ডারের ব্যবসা বন্ধ থাকলে এর প্রভাব দুই দেশের ব্যবসায়ীদের উপর পড়বে। ওপারের ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মন্দা। তাছাড়া বৈদেশিক বাণিজ্যের দৈনন্দিন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাঙ্কের সুদ বেড়েছে। এইসব কারণে ওই দরে বোল্ডার আমদানি করে তাঁদের পোষাচ্ছে না। সেজন্যই বোল্ডারের দাম কমানোর দাবি তুলেছেন। বুড়িমারি স্থলবন্দরের ইমপোর্টাস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহম্মদ আবু রাইয়ান আশরি বলেন, চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও ভুটান থেকে বোল্ডার আমদানির দর বৃদ্ধি না করার দাবি জানানো হয়েছে। কারণ বর্তমানে এই আমদানির খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে।
Advertisement
এতে আশানুরূপ লাভ হচ্ছে না। চ্যাংরাবান্ধা এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোজ কানু ও সম্পাদক উত্তম সরকার বলেন, ভুটানের ক্ষেত্রে বোল্ডারের দর টন প্রতি কমানোর দাবি তুলেছে বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা আমরা চাই না। তাই যেভাবেই হোক, সমাধান সূত্র বের করা হবে।



