Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলাদেশে ফেনসিডিল পাচারের পান্ডা মিনহাজও অনুপ্রবেশকারী, নতুন তথ্য পেলেন তদন্তকারীরা

বাংলাদেশে ফেনসিডিল পাচারের পান্ডা মিনহাজও অনুপ্রবেশকারী, নতুন তথ্য পেলেন তদন্তকারীরা
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নাম-পরিচয় পাল্টে ভারতীয় বনে যাওয়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীই কাফ সিরাপ ফেন্সিডিল (যা নেশার জন্য বহুল ব্যবহৃত) কারবারের মূল মাথা। মিনহাজ খান ওরফে দুখুর সিন্ডিকেটই নদীয়া-মুর্শিদাবাদ সীমান্তে কাফ সিরাফের কারবারকে নিয়ন্ত্রণ করছে। একাধিকবার ধরা পড়েও জামিন পাওয়া মিনহাজ এই দুই জেলার সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় একাধিক বাঙ্কার ও গোডাউন তৈরি করেছে কাফ সিরাপ মজুত করার জন্য। সম্প্রতি করিমপুর সীমান্তে উদ্ধার হওয়া বাঙ্কার এবং সেখানে মজুত কোটি টাকারও বেশি ফেন্সিডিল যে দুখুর গ্যাংয়েরই কাজ, সে তথ্যও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। কোন কোন জেলায় ফেন্সিডিল কারবারের রমরমা ও কোন কোন সিন্ডিকেট তাতে সক্রিয়, তার খোঁজ করতে গিয়ে এই তথ্য হাতে এসেছে রাজ্যের গোয়েন্দাদের। এই কারবারে জড়িতদের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানের নামার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
Advertisement
বাংলাদেশে ফেন্সিডিল সিরাপের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই তুঙ্গে। এক একটি বোতল সীমান্তের ওপারে বিক্রি হয় ১০০০-১২০০ ভারতীয় টাকায়। বিপুল পরিমাণ লাভ থাকায় নদিয়া, মুর্শিদাবাদের একটা বড় অংশ এই কারবারে জড়িয়ে পড়েছে। রীতিমতো ‘স্বনির্ভরতার’ মাধ্যম হয়ে উঠেছে এই কারবার। নদীয়ার বাঙ্কার তৈরি করে কাফ সিরাপ মজুত করার বিষয়টি  সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসেন রাজ্যের গোয়েন্দারা। তাঁদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশ থেকেই সবচেয়ে বেশি ফেন্সিডিল আসছে এই রাজ্যে। এরপর রয়েছে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড। প্রতিদিন ২০-২৫ লরি সিরাপ আসছে নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের সীমান্তে। চোরাপথে তা চলে যাচ্ছে বাংলাদেশে।
গোয়েন্দাদের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, দুই জেলায় এই কারবারের কিংপিন এখন মিনহাজ। বছর পাঁচেক আগে চোরাপথে সীমান্ত পেরিয়ে সে মুর্শিদাবাদে ঢোকে। দালাল মারফত ভারতীয় নথি বানিয়ে রাতারাতি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী দুখু হয়ে যায় মিনহাজ খান। ধীরে ধীরে ফেন্সিডিল পাচারের কারবারের দখল নেয়, মেলে রাজনৈতিক সাহচর্যও। ২০১৪ থেকে ১৯’এর মধ্যে মুর্শিদাবাদের ডোমকল, রানিনগর ও উত্তর ২৪ পরগনার শাসন থানায় একাধিকবার ধরা পড়ে বেআইনি মাদক পাচারের অভিযোগে। চার্জশিটও জমা পড়ে তার বিরুদ্ধে। 
গোয়েন্দারা জেনেছেন জামিন পাওয়ার পর সে নদীয়া, মুর্শিদাবাদে এই কারবারের মুকুটহীন ‘সম্রাট’ হয়ে ওঠে।  সীমান্ত এলাকায় কাফ সিরাপের চোরাকারবারে জড়িত অন্য ব্যবসায়ীদের নিজের দলে টেনে বড় ‘টিম’ বানায়। তার অধীনে মাস মাইনেতে ৩০০’র বেশি ছেলে কাজ করছে। অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে নাইন এবং সেভেন এমএম পিস্তল। একাধিক বাঙ্কার ও গোডাউন তৈরি করে মজুত রাখা হয়েছে এই কাশির সিরাপ। ভিন রাজ্য থেকে ফেন্সিডিল নিয়ে আসার জন্য রয়েছে লরি ও ছোট গাড়ি। গোয়েন্দাদের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, মিনহাজের পাল্টা সিন্ডিকেটের মাথা হলো সুজা ও সৌরভ। যদিও ইতিমধ্যেই কারবারের ৭০ শতাংশ দখল নিয়েছে  মিনহাজ।  এরা ছাড়া আর কারা ফেন্সিডিলের কারবার চালাচ্ছে, তার তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সমস্ত তথ্য একজোট করে কারবারিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি, মজুত রাখা ফেন্সিডিল বাজেয়াপ্ত করার রাস্তায় রাজ্য পুলিস হাঁটতে চলেছে বলে খবর।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ