Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেলডাঙার মির্জাপুর দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্য, আগ্নেয়াস্ত্র পাচার করতে গিয়ে ফের ধৃত জর্দা

বেলডাঙার মির্জাপুর দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্য, আগ্নেয়াস্ত্র পাচার করতে গিয়ে ফের ধৃত জর্দা
  • ২১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাটোয়া : ক্রমেই দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠছে মুর্শিদাবাদের বেলেডাঙা থানার মির্জাপুর গ্রাম। তার প্রত্যক্ষ ও প্রভাব পড়ছে পড়শি জেলা পূর্ব বর্ধমানে। দুষ্কৃতীদের কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে কাটোয়া মহকুমাও। প্রায় নিত্যদিন অস্ত্রপাচার, চুরি-ছিনতাই হচ্ছে কাটোয়ায়। পাশাপাশি, অন্যান্য জেলাতেও ছড়িয়ে পড়ছে অপরাধমূলক কাজকর্ম। 
Advertisement
কাটোয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করতে গিয়ে ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছে কুখ্যাত দুষ্কৃতী ওয়াজুল শেখ ওরফে জর্দা ও তার শাগরেদ তাহিদ শেখকে। দু’ জনেই বেলডাঙার বাসিন্দা। এরা অফিস টাইমেই কাটোয়া সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গৃহস্থের বাড়িতে চুরি করে। ইদানীং অস্ত্র সরবরাহের গুরুতর অপরাধেও পারদর্শী হয়ে উঠেছে। সোমবার ধৃত দুই দুষ্কৃতীকে কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাদের ৭ দিন পুলিস হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। 
গত বছর জুলাই মাসে কাটোয়ার ননগর গ্রামে একটি বাড়িতে চুরির মামলায় ধরা পড়ে মির্জাপুর বা বেলডাঙা গ্রামের গ্যাংয়ের পাণ্ডা জর্দ। পাকড়াও করা হয় তার সাগরেদদেরও। ওই একই সময় কাটোয়ায় পাঁচটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। তাতেও জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে জর্দা ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে।  গ্রেপ্তারও করা হয়। পুলিস সূত্রে খবর, গত বছর জানুয়ারি মাস থেকে চলতি মাস পর্যন্ত ফরাক্কা থেকে কলকাতা পর্যন্ত ৩৫ টি’রও বেশি বাড়িতে চুরির ঘটনায় জড়িত ছিল  জর্দা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। চুরি করা সোনার গয়না বিক্রি করে সে রাতভর আসানসোলের লছিপুরে নিষিদ্ধপল্লিতে ফূর্তি করত।  মক্ষীরানিদের পিছনে দেদার টাকা ওড়াত। ঘরে ফিরেও জমিদারি স্টাইলে খরচ করত। জামিন মিলতেই ফের ময়দান দাপাচ্ছে জর্দা ও তার শাগরেদরা।  
এবার পুলিস তাকে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহের মামলায় গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি কাটোয়ার কোশিগ্রামের একটি বাড়িতেও চুরির ঘটনায় ধৃতরা যুক্ত ছিল। দু’জনের কাছ থেকে তিনটি পাইপগান ও দু’রাউণ্ড গুলি উদ্ধার হয়। ধৃতরা দামি বাইক নিয়ে দ্রুত গতিতে রবিবার রাতে কাটোয়া-বোলপুর রোড ধরে কাটোয়ার দিকে ঢুকছিলষ সিপাইদিঘি মোড়ের কাছে যতীনপুরে তাদের ফিল্মি কায়দায় ধরা হয়। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলডাঙা থানা এলাকার মির্জাপুর গ্রামে বহু দুষ্কৃতী রয়েছে। যাদের মূল পেশাই হল রাজ্যজুড়ে গৃহস্থের বাড়িতে চুরি করা। সেই সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহের ক্যারিয়ারও হয়ে ওঠে তারা। হেরোইনের নেশায় বুঁদ থাকে সকলেই। দুপুর  ১২ টা থেকে বিকেল ৩ টে অফিস টাইম। সাধারণত বাড়ি ফাঁকা থাকে। এই সময়টাকে চুরির জন্য বেছে নিয়েছিল জর্দা তার গ্যাং।  বাইকে করেই বিভিন্ন জেলায় চলে যেত তারা। খুব অল্প সময়েই একের পর এক বাড়ি লুট করত তারা। একদিনে একাধিক বাড়িতে চুরি করতে পটু ছিল জর্দা। তার কাছ থেকে দু’টি নতুন বাইকের কাগজ পেয়েছে পুলিস। এরা কিস্তিতে নতুন দামি বাইক কিনে ক্রাইম করতে বের হতো। তাতে নম্বর প্লেট থাকে না। এতে  সুবিধা হয় তাদের। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দ্রুত বাইক চালানোয় পটু জর্দা। বাইক নিয়ে মির্জাপুর গ্রামের দুষ্কৃতীরা উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত হানা দেয়।  তবে, গ্রামে জর্দার গ্যাংকে জালে তোলা দুষ্কর পুলিসের।  
কারণ বাইরের অপরিচিত নম্বরের গাড়ি ঢুকলেই জর্দা ও তার শাগরেদদের কাছে খবর পৌঁছে যেত। তাছাড়া পুলিসের গতিবিধির উপর তীক্ষ্ণ নজর থাকে ‘গ্যাংস অব মির্জাপুর’-এর দুষ্কৃতীদের। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ