Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঝালদায়

বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঝালদায়
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে শনিবার আন্দোলনে নামলেন ঝালদা-১ ব্লকের মাঘা গ্রামের বাসিন্দারা। এদিন বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করে পুলিস। যদিও বাসিন্দারা একেবারেই নাছোড়বান্দা। তাঁদের সাফ দাবি, গ্রামের পাশের নদীতে কোনওভাবেই বালিঘাট চলতে দেব না। এনিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার ফের বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চলেছে পুলিস। 
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝালদা-১ ব্লকের মাঘা গ্রামের একদিকে বয়ে গিয়েছে সুবর্ণরেখা, অন্যদিকে রূপাই নদী। সম্প্রতি গ্রামের কাছেই সুবর্ণরেখায় একটি বালিঘাটের অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। যদিও বাসিন্দাদের সাফ দাবি, ওই এলাকা থেকে বালি উত্তোলন করা চলবে না। কারণ হিসেবে বাসিন্দাদের যুক্তি, একবার বালি উত্তোলন শুরু হলেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে বালি মাফিয়ারা। বৈধ কাগজ নিয়ে তখন শুরু হবে অবৈধ কারবার। তাদের আর রোখা যাবে না। অবৈধভাবে বালি উত্তোলন হলে গোটা গ্রামই নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে। তাছাড়া, বালি উত্তোলন হলে নদীতে তৈরি হবে বড়বড় গর্ত। 
গ্রামবাসীদের আরও দাবি, বালিঘাট থেকে ১০০ মিটার দূরেই নদীর উপর একটি সেতু রয়েছে। বালি তোলার ফলে সেই সেতু যদি কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়বে। তাই কোনওভাবেই ওই এলাকা থেকে বালি তোলা চলবে না বলে বাসিন্দারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার নদীঘাট থেকে বালিবোঝাই ট্রাক যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করতে একটি জেসিবি পাঠায় কারবারিরা। তাতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। গ্রামবাসীরা বাধা দেয়। জেসিবিটি বালিঘাট থেকে উঠে যেতে বাধ্য হয়। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করতে হয় বিশাল পুলিস বাহিনী। এরপর আলোচনার জন্য শনিবার বাসিন্দাদের ঝালদা থানায় ডাকা হয়। যদিও বাসিন্দারা কেউ শনিবার থানায় যায়নি। তাঁদের দাবি, মহিলাদের নিয়ে থানায় যাওয়া সম্ভব নয়। আলোচনা চাইলে পুলিস আসুক। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় বিশাল পুলিস বাহিনী মোতায়ন করা হয়। মাঘায় আসেন ঝালদা থানার আইসি পার্থসারথি ঘোষ। তিনি বাসিন্দাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ধরে আলোচনা করেন। বাসিন্দাদের বোঝান, তাঁরা যা আশঙ্কা করছেন সেই রকম কিছু হবে না। যদিও তাতে বরফ গলেনি। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই আমরা সমস্যার সমাধান করতে চাইছি। বাসিন্দাদের সবরকমভাবে বোঝানোর চেষ্টা চলছে। বাসিন্দাদের দাবি যে একেবারেই অমূলক নয়, তা মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। পুরুলিয়ার আড়ষার বেলডিতে লাগাতার বালি উত্তোলনের ফলে বসে গিয়েছে বেলডি ব্রিজ। বর্তমানে সেই সেতু দিয়ে যাতায়াত করা দুষ্কর হয়ে গিয়েছে। ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ। 
তাছাড়া বিশেষজ্ঞদের দাবি, জেলায় বালি মাফিয়াদের দাপটে কংসাবতী, সুবর্ণরেখার গতিপথও পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে বহু বাড়ি, জমি। তাই গ্রামের পাশে বালিঘাট চালু হলে বাসিন্দাদের বিপদের বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর মাহাত বলেন, ওই ঘাট নিয়ে ঝামেলা দীর্ঘদিনের। আমরা বাসিন্দাদের পাশে রয়েছি। সরকার প্রয়োজনে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে সমস্যার সমাধান করুক। তাছাড়া, নদীর পাশের গ্রামের কোনও বাসিন্দার বালি লাগলে তাঁকে ট্রাক পিছু তিন থেকে চারহাজার টাকা দিতে হচ্ছে। সেব্যাপারেও ভাবনাচিন্তা করুক সরকার।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ