Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালি পাচার রুখতে গভীর রাতে অভিযানে জেলাশাসক

বালি পাচার রুখতে গভীর রাতে অভিযানে জেলাশাসক
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, বোলপুর: বালি পাচার রুখতে জেলা পুলিস ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। জেলাজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় ও নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। এবার জেলা প্রশাসনের তরফে বৈধ ঘাটগুলিতেও নজর রাখা হচ্ছে। সেই ঘাটগুলির নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে থেকে বালি তোলা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন জিপিএসের সাহায্য নিচ্ছে। জেলা পুলিস ও প্রশাসনের সাঁড়াশি চাপ বজায় থাকলে এবার বালি পাচারে কিছুটা হলেও রাশ টানা সম্ভব হবে বলে অনেকেই মনে করছেন। 
Advertisement
বালি পাচার নিয়ে সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বালি পাচার রুখতে তিনি কড়া বার্তা দেন। এরপরই জেলা প্রশাসন ও পুলিস সক্রিয় হয়। গত কয়েকদিন ধরে খোদ জেলাশাসক বিধান রায় আচমকা অভিযানে শামিল হচ্ছেন। এডিএম, এসডিও বা বিডিওকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন। শুক্রবার রাতেও তিনি অভিযানে শামিল হন। সিউড়ি-২ ব্লকের হরিপুর মোড় সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চলে। চারটি বালিবোঝাই ডাম্পার আটক করা হয়। দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের বাড়ি দমদমা পঞ্চায়েত এলাকায়। ওই রাতেই পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে লাভপুরেরও অভিযান চালান জেলাশাসক। চৌহাট্টা মহোদোরি-২ পঞ্চায়েতের দুপসা গ্রামের বিভিন্ন বালিঘাটে আচমকা হানা দেন তিনি। সেখানে চারটি ডাম্পার ধরা হয়। দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অবৈধভাবে বক্রেশ্বর নদ থেকে বালি তুলে তা মজুত করা হচ্ছিল। সিউড়ি-২ ব্লকের হরিপুর মোড় এলাকায় তা মজুত করে রাখা হতো। সেখান থেকেই পরে গাড়িতে করে তা পাচার চলত। ওই রাতে সেই এলাকাতেই অভিযান চালানো হয়। সেইসঙ্গে বৈধ ঘাটগুলি থেকে সঠিকভাবে বালি তোলা হচ্ছে কি না তাও খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। অভিযানে নেমে মাঝেমধ্যেই খোদ জেলাশাসক টর্চলাইট হাতে নদীবক্ষে নজরদারির কাজ সারছেন। কখনও আবার আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখছেন। 
জেলাশাসক বলেন, বালি পাচার রুখতে সর্বতোভাবে চেষ্টা চলছে। বৈধ ঘাটগুলিতে নজরদারি চালানো হবে। ঘাটগুলির নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে থেকে বালি তোলা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জিপিএসের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জেলায় মেলা ও বিভিন্ন উৎসবে প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগে বালি পাচারের রমরমা বাড়ছিল। ‌বিষয়টি নজরে আসতেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আচমকা অভিযান শুরু করেন জেলাশাসক। অজয়, কোপাই নদীর পাশাপাশি বক্রেশ্বর ও কুয়ে নদীর বিভিন্ন জায়গাতেও গজিয়ে উঠেছে অবৈধ বালিঘাট। বিষয়টি জানতে পেরে বক্রেশ্বর নদী সংলগ্ন হরিপুরে যান জেলাশাসক।‌ একইভাবে লাভপুরেও অভিযান চলে। কুয়ে নদীর পাড় বরাবর বেশকিছু অবৈধ ঘাটে প্রচুর বালি বাজেয়াপ্ত করে পুলিস। জেলাশাসক বলেন, কাউকেই রেয়াত করা হবে না। আগামী দিনেও লাগাতার অভিযান চলবে।
সম্পর্কিত সংবাদ