Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিল না মেটানোয় মহকুমা কৃষিদপ্তরের বিদ্যুৎসংযোগ ছিন্ন, ৩ দিন বন্ধ কাজ

বিল না মেটানোয় মহকুমা কৃষিদপ্তরের বিদ্যুৎসংযোগ ছিন্ন, ৩ দিন বন্ধ কাজ
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: দীর্ঘদিন ধরে বিল না মেটানোয় মহকুমা কৃষিদপ্তরের বিদ্যুৎ সংযোগ কাটল বোলপুরের বিদ্যুৎ দপ্তর। ওই দপ্তরে প্রায় এক লক্ষ টাকা বিল বাকি ছিল। ফলে, তিনদিন ধরে অন্ধকারে কৃষিদপ্তর। গুরুত্বপূর্ণ বহু কাজ অসম্পূর্ণ পড়ে রয়েছে। শুধু কৃষিদপ্তরেই নয়, বেশ কিছু সরকারি দপ্তর সহ বিশ্বভারতীর কয়েকটি ক্যান্টিনেও বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকী, বোলপুর- শ্রীনিকেতন ব্লক অফিসেও বিদ্যুতের লাইন কাটার জন্য কর্মীরা উপস্থিত হয়েছিলেন। বিডিও সত্যজিৎ বিশ্বাস তড়িঘড়ি সেই বিল মিটিয়ে দেওয়ায় এ যাত্রায় সংযোগ কাটা হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হতেই চর্চা শুরু হয়েছে বোলপুর শহরে। বিদ্যুৎ দপ্তরের দাবি, মাসের পর মাস বিল না মেটানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের থেকে চাপ বাড়ছিল। 
Advertisement
শ্রীনিকেতন রোডে রয়েছে মহকুমা কৃষি দপ্তর। এই অফিসের অধীনে রয়েছে বোলপুর-শ্রীনিকেতন, নানুর, লাভপুর ও ইলামবাজার চারটি ব্লকের কৃষিদপ্তর রয়েছে। মহকুমার যাবতীয় কৃষি সংক্রান্ত কাজ এই অফিস থেকেই পরিচালিত হয়। রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের মধ্যে কৃষকবন্ধু নিশ্চিত আয় প্রকল্প, কৃষকবন্ধু মৃত্যুকালীন সহায়তা, শস্যবিমা, কৃষক ভাতার মতো প্রকল্প এই দপ্তর থেকে প্রদান করা হয়। এছাড়াও  দুঃস্থ কৃষকরা এই দপ্তর থেকে ভর্তুকি পেয়ে কৃষি সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি কিনতে পারেন। সেই অফিসেরই  বিদ্যুৎ সংযোগ গত সোমবার বিচ্ছিন্ন করা হয়। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সাত মাস আগে শেষ বিল দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া জমতে জমতে ৮২ হাজার ২৩২ টাকায় দাঁড়ায়। এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় তিনদিন ধরে অফিসে কোনও কাজ হয়নি। মহকুমা কৃষিদপ্তরের সহ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) দেবাশিস চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অনেক অফিসে আমাদের থেকেও বেশি বিল বকেয়া রয়েছে। তবু আমাদের অনুরোধ বিদ্যুৎ দপ্তর গ্রাহ্য করেনি। তবে, দ্রুত টাকা জমা করার প্রক্রিয়া চলছে। 
কৃষিদপ্তর ছাড়াও বিশ্বভারতীর সঙ্গীত ভবনের ক্যান্টিনের বিদ্যু সংযোগ কাটা হয়েছে। তাদের বিল বাকি ছিল ৪০ হাজার ২২৭ টাকা। এছাড়া, বিনয় ভবন ক্যান্টিনে ২৯ হাজার ৫৪২ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল কিচেনে ৩৩ হাজার ৬৬০ টাকা বাকি থাকায় বিদ্যুতে লাইন কাটা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকী, বোলপুরের ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরে একই অভিযোগের প্রেক্ষিতে লাইন কাটা নিয়ে সাময়িক গোলমালের সৃষ্টি হয়। এছাড়া, রায়পুর-সুপুর পঞ্চায়েত অফিস সহ ওই পঞ্চায়েতের নুরপুরে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের একটি দপ্তরেও একই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ দপ্তরের এক আধিকারিক। তবে লাইন কাটার ধরন প্রসঙ্গে আক্ষেপ করেছেন বোলপুর- শ্রীনিকেতন ব্লকের বিডিও সত্যজিৎ বিশ্বাস। তিনি বলেন, বিল বকেয়া ছিল ঠিকই, কিন্তু ব্লক অফিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তর। যেভাবে কোনও নোটিফিকেশন ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ কাটতে এসেছিল, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বলার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিল মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ