সংবাদদাতা, কালিয়াচক: বছর দশেক আগের কথা। এমন একটি দিনও যায়নি কালিয়াচকের নওদা-যদুপুরে রক্তপাত হয়নি। প্রায় সময় উত্তাল হয়ে থাকত এই এলাকা। ১১২ নং জাতীয় সড়ক চলে গিয়েছে এলাকার বুক চিড়ে। বছর দশেক আগেও এই সড়ক ধরে যেতে প্রচণ্ড ভয় পেতেন সাধারণ মানুষ। কারণ মাঝেমধ্যেই বোমাবাজি শুরু হয়ে যেত। কথায় কথায় চলত গুলি। সামান্য ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের কোপ মারা ছিল মামুলি ঘটনা। বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সবসময় উত্তেজনা জিইয়ে থাকায় সিঁটিয়ে থাকতেন এলাকার সাধারণ মানুষ। এই মরণপণ লড়াইয়ের পিছনে কারণ কী? কাদের মধ্যে চলত এই রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্ব? কেন ফিরে এল সেই কালো দিন?
Advertisement
স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, যদুপুর এলাকায় লড়াই মূলত চলে আসছে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে। দু’পক্ষই যদুপুর এলাকার রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে জমির কারবারসহ অন্যান্য সমস্ত বিষয় নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া ছিল। বিপক্ষকে দমিয়ে রাখতে সেজন্য প্রায় বোমাবাজি, গোলাগুলির ঘটনা ঘটত। কখনও খুন হতো বকুল শেখের অনুগামীরা, আবার প্রাণ যেত জাকির শেখের অনুগামীদেরও। এলাকায় বকুল বরাবর দাবাং নেতা হিসেবে পরিচিত। একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বছর চারেক জেলে ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৮ সালে জামিন পেয়েছিলেন বকুল। অন্যদিকে জাকিরও একসময় ‘ত্রাস’ হিসাবেই পরিচিত ছিল এলাকায়। বকুল একসময় সিপিএম করলেও ২০১১ সালে তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে ২০১২ সালে শাসক দলে যোগদান করেন। তারপর থেকেই বকুল যদুপুরের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি পদ পান। তৃণমূলে থাকার সময় থেকেই তাঁর প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে। অনুগামীদের সংখ্যাও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ২০১৪ সালে একটি খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হন বকুল। কয়েক বছর জেলে থাকাকালীন তাঁর প্রভাব কমতে থাকে এলাকায়। মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে জাকির গোষ্ঠী। বরাবর কংগ্রেস করলেও ২০১৬ এর দিকে জাকিরও তৃণমূলে যোগদান করেন। এরই মাঝে বকুল জামিন পেয়ে ফের এলাকায় ফিরলে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির পদ ফিরে পান।
কিন্তু জাকির তার মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠেন। মাঝেমধ্যেই তাঁদের মধ্যে শুরু হয় গণ্ডগোল। দলে যোগ্য স্থান না পেয়ে জাকির কংগ্রেসে যোগদান করলে যদুপুর অঞ্চলে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর ভালো ফল করে হাত শিবির এবং আইএসএফের জোট। ভোটের দিনই নওদা যদুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোট চলাকালীন বুথ দখলের চেষ্টা করেন বকুলের ভাই এসার উদ্দিন এবং তাঁর অনুগামীরা। এমনটাই অভিযোগ ছিল। কিন্তু তারপরেও নওদা যদুপুরে ভালো ফলো করতে পারেনি তৃণমূল। অন্যদিকে কংগ্রেস এবং আইএসএফ ভালো ফলাফল করলে তারাই বোর্ড গঠন করে। মাস তিনেক আগে জাকিরের দলবল এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যরা ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। শুরু হয় জাকির এবং বকুলের রেষারেষি। কিছুদিন আগেও দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কিন্তু পুলিস সক্রিয় থাকায় বড়ো ঘটনা ঘটেনি।
কিন্তু জাকির তার মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠেন। মাঝেমধ্যেই তাঁদের মধ্যে শুরু হয় গণ্ডগোল। দলে যোগ্য স্থান না পেয়ে জাকির কংগ্রেসে যোগদান করলে যদুপুর অঞ্চলে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর ভালো ফল করে হাত শিবির এবং আইএসএফের জোট। ভোটের দিনই নওদা যদুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোট চলাকালীন বুথ দখলের চেষ্টা করেন বকুলের ভাই এসার উদ্দিন এবং তাঁর অনুগামীরা। এমনটাই অভিযোগ ছিল। কিন্তু তারপরেও নওদা যদুপুরে ভালো ফলো করতে পারেনি তৃণমূল। অন্যদিকে কংগ্রেস এবং আইএসএফ ভালো ফলাফল করলে তারাই বোর্ড গঠন করে। মাস তিনেক আগে জাকিরের দলবল এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যরা ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। শুরু হয় জাকির এবং বকুলের রেষারেষি। কিছুদিন আগেও দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কিন্তু পুলিস সক্রিয় থাকায় বড়ো ঘটনা ঘটেনি।



