Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাঁকড়ায় যানজটে নাজেহাল নিত্যযাত্রীরা  থমকে যায় অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলের পুলকারও

বাঁকড়ায় যানজটে নাজেহাল নিত্যযাত্রীরা  থমকে যায় অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলের পুলকারও
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া স্টেশন থেকে আমতা পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও সারাদিনে লোকাল ট্রেন চলে হাতেগোনা। ফলে বাস রুটই ভরসা সাধারণ মানুষের। হবেই বা কেন, এই বাস রাস্তার ধারেই যে বিভিন্ন জনপদ ক্রমে মফস্‌সল হয়ে উঠেছে। হাওড়া-আমতা রোড আসলে এই অঞ্চলের লাইফলাইন। তবে এই রাস্তায় দিনের বেশিরভাগ সময়ে যানজট লেগেই থাকে। যা মাথাব্যথার কারণ নিত্যযাত্রী থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সন্ধ্যা নামলেই যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। সব থেকে খারাপ অবস্থা বাঁকড়ায়। এখানে রাস্তার দু’ধারে অজস্র দোকান, কাপড়ের হাট। বাজার বসে রাস্তার উপর। এই যানজট মোকাবিলায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
Advertisement
হাওড়া-আমতা রোডের উপর দিয়ে উদয়নারায়ণপুর, ডিহিভূরশুট, আমতা, বড়গাছিয়া, পাতিহাল, মাজু, ডোমজুড়, ঝিখিরা, রাজবলহাট, জাঙ্গিপাড়া, রানিহাটি রুটের একাধিক বাস দিনভর চলাচল করে। পাশাপাশি রয়েছে বাঁকড়া-পার্কসার্কাস রুটের মিনিবাস, ছোট-বড় অসংখ্য পণ্যবাহী গাড়ি আর টোটো, বাইকের সারি। অফিস টাইমে হাওড়া-আমতা রোডের দোতলা মোড় থেকে কবরপাড়া পর্যন্ত প্রায় দু’কিলোমিটার রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এই রাস্তার মধ্যেই পড়ে বাঁকড়া বাজার। তার একদিকের ফুটপাত দখল করে নিত্য বসে মাছ-মাংস, সব্জির দোকান, অন্যদিকের দখল নিয়েছে বড় বড় কাপড়ের দোকান। ফলে দিনের সিংহভাগ সময় এখানে ভয়ানক যানজট হয়। রাস্তার উপরেই ট্রাক দাঁড় করিয়ে মালপত্র নামানোর কাজ চলে। ফলে কোনও গাড়িই তখন এগতে পারে না। আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স, স্কুল পড়ুয়াদের পুলকার, বাস, গাড়ি। ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। এই রাস্তার ধারেই রয়েছে তিনটি হাইস্কুল ও মাদ্রাসা, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সব মিলিয়ে বাঁকড়া-১ ও ২ নম্বর পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ অংশের বাসিন্দাদের কাছে হাওড়া-আমতা রোডের যানজট এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে গোদের উপর বিষফোঁড়া হিসেবে উঠে এসেছে রাস্তার বেহাল অবস্থা। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহর বাড়লেও রাস্তা চওড়া হওয়ার পরিবর্তে সংকীর্ণ হয়েছে। ফুটপাত দখল করে যেমন ছোট ছোট খাবারের দোকান বসেছে, তেমনই বড় দোকানগুলি অনেক ক্ষেত্রে ফুটপাতের দখল নিয়েছে। পাশাপাশি টোটোর দাপটে এখন এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাই দায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশের কথায়, সন্ধ্যার পর রাস্তায় তিল ধরনের জায়গা থাকে না। এই এলাকায় পার্কিং একটা বড় সমস্যা। বহুবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পৃথক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় যানজটের সমস্যা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বাঁকড়ার যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিস ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের। কর্তব্যরত ট্রাফিক কর্মীদের কয়েকজন বলেন, ‘যেখানে সেখানে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হয়। সঙ্গে টোটোর ভিড় দিনে দিনে বাড়ছে। ট্রাফিক আইন মানা তো দূরের কথা, আমাদের কথাও শুনতে চায় না গাড়িচালকরা।’ এ নিয়ে হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘হাওড়া-আমতা রোডের যানজট একটা বড় সমস্যা। ট্রাফিকের তরফে তা মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধানে এখন বিকল্প পথ ভাবা হচ্ছে।’  নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ