Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ায় প্রাইভেট নম্বর প্লেটযুক্ত গাড়িতে নীলবাতির যথেচ্ছ ব্যবহার, উদ্বিগ্ন পুলিস

বাঁকুড়ায় প্রাইভেট নম্বর প্লেটযুক্ত গাড়িতে নীলবাতির যথেচ্ছ ব্যবহার, উদ্বিগ্ন পুলিস
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় প্রাইভেট নম্বর প্লেটযুক্ত চারচাকা গাড়িতে নীলবাতির যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। সরকারি আধিকারিক থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, অনেকেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে নীল বাতি ব্যবহার করছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিস উদ্বিগ্ন। নীল বাতি দেখলে সাধারণত রাস্তায় মোতায়েন পুলিসকর্মীরা চেকিং করার সময় গাড়ির পথ আটকান না। এই সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা অপরাধ সংগঠিত করে চম্পট দিতে পারে বলে পুলিস আশঙ্কা করছে। 
Advertisement
বাঁকুড়া জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, নীল বাতির যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কেনা গাড়িতেও নীলবাতি লাগিয়ে আধিকারিক, জনপ্রতিনিধিরা ঘুরছেন। এরফলে সমস্যা হচ্ছে। লাল ও নীল বাতির অপব্যবহার বন্ধ হওয়া উচিত। 
বাঁকুড়া আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সরকারি দপ্তরগুলিতে প্রাইভেট নম্বর প্লেটযুক্ত(সাদা রংয়ের) গাড়ি অনেকেই ভাড়ায় খাটাচ্ছে। আধিকারিকরা তাতে চেপে যাতায়াত করছেন। কিন্তু সরকারি দপ্তরে ভাড়া দেওয়ার জন্য গাড়ির কমার্শিয়াল নম্বর প্লেটযুক্ত (হলুদ রংয়ের) গাড়ি হওয়া জরুরি। আসলে কমার্শিয়াল গাড়ির তুলনায় প্রাইভেট গাড়িতে ট্যাক্স ও অন্যান্য খরচ অনেক কম হয়। সরকারি দপ্তরের জন্য নেওয়া গাড়ির ভাড়া শেষবার প্রায় ২০ বছর আগে বেড়েছিল। তারপর থেকে ওই দরেই গাড়ির ভাড়া মেটানো হয়। ফলে কমার্শিয়াল নম্বর প্লেটযুক্ত গাড়ি ভাড়া নেওয়া আধিকারিকদের পক্ষেও মুশকিল হয়ে পড়েছে।     
উল্লেখ্য, রাজ্যের অন্যান্য জেলার মতো বাঁকুড়াতেও ব্যক্তিগত গাড়িতে দপ্তরের নাম, পদের নাম প্রভৃতি লেখার প্রবণতা রয়েছে। পুলিস বা সেনাবাহিনীতে কর্মরত যুবকরা বাইকে নিজের দপ্তরের নাম লাল কালিতে লিখে থাকেন। বনবিভাগে কর্মরতদের বাইকের নম্বর প্লেটের রংও সবুজ এবং খয়েরি হয়ে থাকে। বহু সরকারি কর্মী বাইকের নম্বর প্লেটে অশোক স্তম্ভ ব্যবহার করেন। পুরসভা বা পঞ্চায়েত কর্মীরাও বাইকের সামনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা বিভাগের নাম লিখে ঘুরে বেড়ান। বর্তমানে বাঁকুড়ায় প্রেস স্টিকারের অপব্যবহার হচ্ছে বলেও অভিযোগ। ছাপাখানার কর্মী থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার পেজের মালিক, অনেকেই গাড়িতে ‘প্রেস’ লিখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। লাল ও নীলবাতির অপব্যবহারের পাশাপাশি বাঁকুড়ায় চারচাকা গাড়িতে ‘অন ডিউটি’ লেখা বোর্ড ব্যবহারের প্রবণতাও দিনদিন বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি দপ্তরের বিশেষ কোনও কমিটির সদস্যরাও ব্যক্তিগত গাড়িতে ‘অন ডিউটি’ লিখে ঘুরছেন। 
জেলা পুলিসের এক কর্তা বলেন, লাল ও নীল বাতির অপব্যবহার দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও হয়। চারচাকা গাড়িতে অশোক স্তম্ভ এবং বিভিন্ন ধরনের বাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আদালত এবং সরকারের নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে। তা সত্ত্বেও বাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। রাজ্যের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন ‘ফ্ল্যাশ’ সহ লালবাতি ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু, জেলাস্তরেও বর্তমানে দু’-একজনকে লালবাতি ব্যবহার করতে দেখা যায়। নীলবাতির ব্যবহার আকছার ঘটে। বিষয়টির সঙ্গে হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকরা জড়িত। ফলে সবকিছু দেখেশুনেও চুপ থাকতে হয়। বিষয়টি আইন লঙ্ঘনকারীদের ভেবে দেখা উচিত। বিশেষ করে আইন প্রণেতা ও রক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ