Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বকেয়া বিপুল, পকেট থেকে টাকা খরচ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালাতে হচ্ছে পুর-চিকিৎসকদের

বকেয়া বিপুল, পকেট থেকে টাকা খরচ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালাতে হচ্ছে পুর-চিকিৎসকদের
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় ১১ মাস অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ, মিলছে না জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের টাকা। এখন নিজেদের গাঁটের কড়ি খরচ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালাতে হচ্ছে কলকাতা পুরসভার চিকিৎসকদের। 
Advertisement
এভাবে আর কত দিন? প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতির কারণে কপালে চিন্তার ভাঁজ পুরসভার স্বাস্থ্য আধিকারিকদেরও। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ আসছে না। ফলে রাজ্যও টাকা পাঠাতে পারছে না। গত দু’বছর ধরে চলছে এই পরিস্থিতি। কিন্তু প্রথম দিকে রাজ্য নিজেদের টাকায় কোনওরকমে চালিয়েছিল। পুরকর্তাদের অভিযোগ, গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে কোনও টাকাই মিলছে না। সে টাকার অঙ্ক প্রায় ৭২ লক্ষ। এর বাইরেও এই খাতে কেন্দ্রের থেকে বকেয়া রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
পুরসভার অধীনে রয়েছে ১৪৪ পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র। স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে শহরের সব পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র জাতীয় শহর স্বাস্থ্য মিশনের (জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন) আওতায় চলে আসে। তারপর থেকেই প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দৈনন্দিন খরচ সহ যাবতীয় ব্যয়ে বার্ষিক এক লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। যার মধ্যে কেন্দ্র ৬০ শতাংশ ও রাজ্য ৪০ শতাংশ টাকা দেয়। সেই এক লক্ষ ৭৫ হাজারের মধ্যে প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রিন্টার কিংবা ফটোকপির জন্য কালি, কার্টিজ, পেপার, রক্তের নমুনা নিয়ে আসা-যাওয়ার গাড়ি খরচ সহ দৈনন্দিন খরচ সামলাতে মাসে পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকে। অর্থাৎ বছরে হেলথ সেন্টার পিছু বরাদ্দ ৬০ হাজার টাকা। বার্ষিক বরাদ্দের মধ্যে বাকি টাকা মাসে মাসে পাঠানোর নিয়ম নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কোনও বড় কাজ হলে বিল পাঠানোর পর বাকি টাকা দেওয়া হতো। এক স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, ‘গত এপ্রিল মাস থেকে কোনও টাকাই মিলছে না। প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা নিজের বেতনের টাকা থেকে মাসিক খরচ সামলাচ্ছেন। ফলে প্রতি মাসের পাঁচ হাজার টাকার হিসেব ধরলে ৫০ হাজার টাকা করে এক একজন চিকিৎসকের পকেট থেকে গিয়েছে। ১৪৪ হেলথ সেন্টারের হিসেবে খরচের অঙ্ক প্রায় ৭২ লক্ষ টাকা। যদিও দফায় দফায় বিল পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু এক নয়া পয়সাও মিলছে না।’
স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে খবর, এই ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে কয়েক মাস অন্তর বিশেষ স্বাস্থ্যশিবির চালানো সহ বাকি কিছু কাজের টাকাও ধরা থাকে। গত বছর একবার নিজের ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যশিবির করেছিলেন চিকিৎসকরা। সে কাজে প্রচুর খরচ হয়েছিল। সেই টাকাও পাওয়া যায়নি। তারপর থেকে আপাতত শিবির করতে নিষেধ করা হয়েছে। এক স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জানলা-দরজা নতুন করে বসাতে হলে, কিংবা লাইট-ফ্যান খারাপ হওয়া সহ অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণের কাজ জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের টাকায় হয়। টেন্ডার ডেকে কাজ হয়। পরে বিল পাঠালে সেই টাকা মিলে যেত। কিন্তু গত ১০ মাস ধরে সে টাকার মুখ দেখা যাচ্ছে না।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ