Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বকেয়া ভাতা আদায়ে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়ালেন অস্থায়ী পুরকর্মীরা

বকেয়া ভাতা আদায়ে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়ালেন অস্থায়ী পুরকর্মীরা
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বকেয়া ভাতার দাবিতে পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের আন্দোলন ১৯ দিন অতিক্রম করল। এর জেরে গোটা চুঁচুড়া শহরে সাফাইকাজ বন্ধ। বৃহস্পতিবার অস্থায়ী কর্মীরা আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়েছেন। এদিন পুরসভার গেট আটকে ধর্না শুরু করেছেন তাঁরা। ফলে স্থায়ী কর্মী ও সাধারণ মানুষ এদিন পুরসভায় ঢুকতেই পারেননি। কয়েক দিন আগেই আন্দোলনকারীরা জানিয়েছিলেন, আগামী ২১ ডিসেম্বর থেকে তাঁরা সার্বিক কর্মবিরতিতে যাবেন। অর্থাৎ এবার বিদ্যুত্ ও জল পরিষেবাও বন্ধের মুখে পড়তে চলেছে।
Advertisement
আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশাসন কথা দিয়েছিল, ১৯ তারিখের মধ্যে সমস্ত বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই বকেয়া এখনও মেটানো হয়নি। অভিযোগ, বুধবার থেকেই পুরকর্মীদের অফিসে প্রবেশ করতে না দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। তবে সেদিন কর্মীদের প্রবেশ না করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন তাঁরা। এদিন, আর অনুরোধের পথে যাননি। কার্যত বলপূর্বক স্থায়ী কর্মীদের গেটের বাইরেই তাঁরা আটকে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এর ফলে আলোচনার পথ যে আরও রুদ্ধ হয়ে এল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে অস্থায়ী কর্মীদের কেউ কেউ কাজে যোগ দিতে চাইছেন বলে সূত্রের খবর।
চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় বলেন, ‘আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা চালানোর চেষ্টা চলছে। আমরা বারবার বলেছি, পুরসভার কাজ চলতে না দিলে বকেয়া টাকা মেটানোর কোনও পথ আমাদের খোলা থাকবে না। তারপরেও যখন পুরসভার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, বুঝতে হবে ভাতা পাওয়া মূল উদ্দেশ্য নয়। এর পিছনে গভীর চক্রান্ত আছে।’ সূত্রের দাবি, অস্থায়ী কর্মীদের একাংশ কাজে যোগ দিতে ইচ্ছুক। এই বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রশাসনকে বলেছি, ইচ্ছুকদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।’ এদিকে, পুরসভার কর্মী সংগঠনের নেতা অসীম অধিকারী বলেন, ‘আমাদের হাতে আর কোনও বিকল্প নেই। কর্মীদের ঘরে ভাত নেই। চূড়ান্ত পথে আমাদের হাঁটতেই হবে। আমরা ১৮ দিন সময় দিয়েছি। এরপরেও প্রশাসন কোনও সদর্থক ভূমিকা নেয়নি।’
এদিকে, আগামী শনিবার থেকে যদি সত্যি জল ও বিদ্যুত্ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে বিপাকে পড়বেন বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, শনিবার অনেকেই বাড়িতে থাকেন। এমনিতেই গোটা শহর কার্যত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। চতুর্দিকে দুর্গন্ধ। এই পরিস্থিতিতে যদি জলও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে দুর্দশা চরম পর্যায়ে পৌঁছবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ