নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গৃহবধূর উপর নির্যাতন, পারিবারিক হিংসা এবং বধূহত্যার মতো বহু চর্চিত আইনে বেশ কিছু বদল আনা হবে। অভিযোগ এলেই গ্রেপ্তারের ধারা সম্ভবত থাকবে না। সংশোধনী আইন আনা হবে আগামী বাজেট অধিবেশনেই। যা ছিল নারীদের সুরক্ষা প্রদানের অস্ত্র, সেই আইনকেই বহু নারী ব্ল্যাকমেল কিংবা প্রতারণার কাজে অপব্যবহার করছেন। মিথ্যা মামালয় অভিযোগ করা, খোরপোষ দাবি করা এবং সন্তানের দাবি নিয়ে হয়রান করা হচ্ছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির পরিবারকে। বহু বছর ধরেই এই অভিযোগ উঠছে।
Advertisement
ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮ এবং ৪৯৮ এ ধারা বহু চর্চিত এবং পরিচিত একটি আইন। নারীদের সামাজিক সুরক্ষা দিতেই এই আইন চালু হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। যে কোনও নির্যাতন অথবা নিষ্ঠুর আচরণেই এই মামলা দায়ের করা যায়। ১৮৬০ সালের ভারতীয় দণ্ডবিধির সম্পূর্ণ বদল করা হয়েছে চলতি বছরে। ভারতীয় দণ্ডবিধির পরিবর্তে এসেছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা। মোদি সরকারের ওই নয়া ন্যায় সংহিতায় বধূ নির্যাতনের আইনের ধারা হয়েছে ৮৫ এবং ৮৬। গত জুলাই মাসেই সবেমাত্র চালু হওয়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সর্বপ্রথম সংশোধন আনা হবে এই দুই ধারায়। সেপ্টেম্বর মাসেই আইনমন্ত্রী অর্জুন মেঘওয়াল নিজের মন্ত্রককে নোট তৈরি করতে বলেছিলেন। সেইমতোই বেশ কিছু সংশোধন আনা হচ্ছে। নারীদেরই শুধু নয়, এবার পুরুষদেরও কিছু সুরক্ষা দেওয়া হবে। বিশেষ করে যদি প্রমাণিত হয় কোনও বধূ এই আইনের অপব্যবহার করেছে এবং মিথ্যা মামলায় প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাত করেছে, সেক্ষেত্রে পাল্টা সাজার ব্যবস্থা থাকবে। আইন মন্ত্রক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলছে। আগামী বছরের বাজেট অধিবেশন এই সংশোধনী আইন পেশ করা হবে। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮৫ এবং ৮৬ ধারায় কয়েকটি উপধারা যুক্ত করা হবে। সংশোধনীতে থাকতে পারে যে, অভিযোগ উঠলেই গ্রেপ্তার করা যাবে না। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা এবং পরিস্থিতিজনিত তথ্যপ্রমাণও আগে বিবেচনা করতে হবে। এদিকে নারী সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত সংগঠনের দাবি, এই সংশোধনীর মাধ্যমে বধূ নির্যাতনের নতুন সুযোগ খুলে দেওয়া হবে না তো?



