সংবাদদাতা, কল্যাণী: চাকদহ, কল্যাণী ও হরিণঘাটা—কল্যাণী মহকুমার তিন বিধানসভা কেন্দ্রেই ফের চমক দেখাল বিজেপি। তিন কেন্দ্রেই জয় ছিনিয়ে নিয়ে গেরুয়া শিবির এই অঞ্চলে তাদের শক্ত অবস্থান আরও একবার প্রমাণ করল। নির্বাচনের আগে থেকেই এই তিন কেন্দ্রে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছিল। যদিও ২১-এর বিধানসভা ভোটে তিনটি কেন্দ্রই ছিল বিজেপির দখলে। প্রচারপর্বের শুরু থেকে রাজ্যের শাসক দল একাধিক সভা, মিছিল ও জনসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে জমি শক্ত করার চেষ্টা চালায়। তবে শেষ পর্যন্ত ফলাফল তাদের পক্ষে যায়নি। অন্যদিকে বিজেপি সংগঠন মজবুত করার পাশাপাশি এবং ঘরোয়া প্রচারে জোর দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনে সফল হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। বিজেপি প্রার্থী হিসাবে চাকদহে বঙ্কিম ঘোষ, কল্যাণীতে অনুপম বিশ্বাস এবং হরিণঘাটায় অসীম সরকার জয়ী হয়েছেন। পরাজিত হয়েছেন চাকদহের তৃণমূল প্রার্থী শুভঙ্কর সিংহ (যীশু), কল্যাণীর ডাঃ অতীন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং হরিণঘাটার ডাঃ রাজীব বিশ্বাস। তাঁকা জনতার এই রায় মাথা পেতে নিচ্ছেন বলেই জানিয়েছেন।
গত বিধানসভা নির্বাচনে চাকদহে ১১ হাজার, হরিণঘাটায় ১৪ হাজার ও কল্যাণীতে ২২০০ ভোটে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। সেই নিরিখে এবার তিন কেন্দ্রেই গেরুয়া শিবিরের জয়ের ব্যবধান বেড়েছে। উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনেও এই তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি এগিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতাই বজায় থাকল বিধানসভা ভোটের ফলাফলেও। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই বিপুল জয়ের ফলে সমগ্র কল্যাণী মহকুমাতেই বিজেপির ভিত আরও মজবুত হল। স্থানীয় ইস্যু, সংগঠনের শক্তি এবং ভোটারদের মধ্যে সরকার পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই এই ফলাফলের পিছনে বড়ো কারণ বলে মনে করছে তারা। তবে এই ফলাফল আগামী দিনে জেলার রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ তৈরি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। জয়ের ইঙ্গিত মিলতেই উযদাপন শুরু করে দিয়েছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পরে সময় যত গড়িয়েছে, সেই উচ্ছ্বাস উৎসবের চেহারা নিয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল শিবির এই ফলাফলকে আত্মসমালোচনার দৃষ্টিতে দেখে আগামী দিনের জন্য নতুন কৌশল নির্ধারণে জোর দিচ্ছে। ফলাফল স্পষ্ট হতেই কল্যাণী ও হরিণঘাটায় তৃণমূলের একাধিক পার্টি অফিসের হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূলের রানাঘাট সংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘এই বিপর্যয়ের ব্যাপারে যা বলার, উচ্চতর নেতৃত্ব বলবে। আমি এটুকুই বলব, শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি যেন বজায় থাকে।’ বিজেপির সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘মানুষ তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। এই জয় সাধারণ মানুষের।’