


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দালাল রাজ শেষ করার কথা বলছে রেল। এর জন্য নানাবিধ নিদানও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ভোটের সময় কার্যত দালালের ভূমিকা নিতে চলেছে দেশের শাসক দল বিজেপিই। ভোট দেওয়ার জন্য যারা রাজ্যে যেতে চাইছেন, কিন্তু টিকিট পাচ্ছে না, তাদের জন্য এগিয়ে আসছেন বিজেপি নেতারা। দিল্লি প্রদেশ নেতৃত্ব পরিকল্পনা করছে, ভোট দিতে যাওয়ার জন্য কারও ট্রেনের টিকিট পেতে সমস্যা হলে বিজেপিই ‘বিশেষ ব্যবস্থায়’ তা কনফার্ম করানোর উদ্যোগ নেবে। এক্ষেত্রে রেলে যে ভিআইপি কোটা কিংবা ইমার্জেন্সি কোটা থাকে, তা গ্রহণের সুযোগ করানোর চেষ্টা হবে। সাধারণ মানুষ যেখানে টিকিটের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে, সেখানে বিজেপির এহেন উদ্যোগে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ইতিমধ্যেই এসংক্রান্ত বিষয়ে ব্যক্তিগত স্তরে প্রচার শুরু করেছে দিল্লির গেরুয়া শিবির। এখানেই শেষ নয়। দিল্লি এবং লাগোয়া এনসিআর এলাকায় কর্মরত রাজ্যের কত ভোটার রয়েছেন, তারও ‘ম্যাপিং’ করার চিন্তাভাবনা শুরু করেছে দিল্লি বিজেপির প্রদেশ নেতৃত্ব।
রাজ্যের ভোটার প্রবাসী বাঙালিদের একটি বড়ো অংশকে নির্বাচনের সময় পরোক্ষে বাংলায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে আদতে এবারের বিধানসভা ভোটে মরিয়া প্রভাব ফেলতে চাইছে গেরুয়া শিবির। এহেন উদ্যোগের প্রচার নিছকই ব্যক্তিগত স্তরে করা হচ্ছে। কেন? কারণ বিজেপির আশঙ্কা, আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রচার শুরু হলে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলি তুমুল আক্রমণ শানাবে। এমনকি রেলের ভিআইপি কোটার অপব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠবে। তাই ব্যক্তিগত স্তরে প্রচার চালানো হচ্ছে। বার্তাও পৌঁছাচ্ছে, ফলে উদ্দেশ্য সাধনও হচ্ছে। যদিও রেল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ভিআইপি কিংবা ইমার্জেন্সি কোটার অপব্যবহারের সুযোগ বিশেষ নেই। আবেদনের যথাযথ কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেই ‘কোটা’ মঞ্জুর করা হয়।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক দিল্লি বিজেপির এক নেতা দাবি করেছেন, তাঁর কাছে ইতিমধ্যেই ১৬ এপ্রিল এবং ২২ এপ্রিলের মোট ১০টি টিকিট কনফার্ম করিয়ে দেওয়ার ‘আবেদন’ জমা পড়েছে। প্রত্যেকেই রাজ্যে যেতে চান নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে। দিল্লি বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ এও পরিকল্পনা করছে, নির্বাচনের সময় বাংলায় যাতে আরও বেশি স্পেশাল ট্রেন চালানো হয়, তার আবেদনও করা হবে।