


সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বাংলার আলু চাষিদের নিয়ে রাজনীতি করতে ময়দানে নেমেছে বিজেপি। তাদের সহযোগিতা করছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। ভোটের আগে পরিস্থিতি ঘোরালো করাই উদ্দেশ্য। তাঁদের দাবি, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় নাকি বাংলার আলু চাষিদের হাল খারাপ। কিন্তু তথ্য বলছে, অন্য কথা। এরাজ্যের চাষিদের সহযোগিতা করার জন্য সাড়ে ন’টাকা কেজি দরে আলু কিনতে শুরু করেছে সরকার। কিন্তু অন্য রাজ্যে সেই ছবি দেখা যায়নি। গুজরাত, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে চাষিদের অবস্থা খুবই করুণ। জলের দরে তাঁরা আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। উত্তরপ্রদেশে হাইবব্রিড আলু চার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গুজরাতে ৫০ কেজি আলুর বস্তার দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। পাঞ্জাবে ২০০ থেকে ২২০ টাকা।
কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর আবহাওয়া অনুকূল হওয়ার কারণে দেশের সব রাজ্যেই আলুর ফলন ভালো হয়েছে। বাংলারও প্রতিটি জেলাতে ব্যাপক ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় আলুর দাম কম। এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে বিজেপি কৃষক দরদী সাজছে। কৃষি বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, এরাজ্যের সরকার কীভাবে চাষিদের পাশে থাকে, সেটা তাঁরা জানেন। তাই বিজেপি উস্কানি দিয়েও কিছু করতে পারবে না। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে আলু চাষিদের হাল অত্যন্ত খারাপ। তাঁরা আলু বিক্রি করতে পারছেন না। আমরা চাষিদের সহযোগিতা করার জন্য আলু কিনতে শুরু করেছি। চাষিরা যাতে লোকসানের মুখে না পড়েন, তা দেখা হচ্ছে।
মেমারির আলু চাষি রবিউল শেখ বলেন, এবছর আলু জমিতে রোগের আক্রমণ দেখা যায়নি। বৃষ্টি না হওয়ায় গাছে ক্ষতি হয়নি। সেই কারণে সব জমিতেই অনেক বেশি আলু হয়েছে। এখানে সাড়ে চার থেকে পাঁচ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। সরকার সব জায়গায় সাড়ে ন’টাকা কেজি দরে আলু কিনলে আমরা উপকৃত হব। দাম না থাকায় অনেকে জমি থেকে এখনই আলু তুলতে চাইছেন না।
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, সরকার খাতায় কলমে আলু কিনছে। তাদের ক্যাম্প চোখে দেখা যাচ্ছে না। সরকারের ইচ্ছা থাকলে তারা সব জায়গায় আলু কিনতে পারত। দাম না পেয়ে চাষিরা পথে বসেছেন। আমরা নিজেদের এলাকার চাষিদের কথা আগে ভাবব। তারপর অন্য রাজ্যের কথা বলব।
কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে জেলায় আলু কেনা শুরু হয়েছে। জেলার সমস্ত এলাকার চাষিদের থেকে আলু কেনা হবে। সরকার আলু কিনলে বাজার কিছুটা চাঙ্গা হবে।