


সংবাদদাতা, চাঁচল: মালদহের চাঁচল ও মালতীপুরে নতুন মুখকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। চাঁচলের প্রার্থী করা হয়েছে রতন দাসকে। আর মালতীপুরে আশীষ দাস। চাঁচল ও মালতীপুর দু’টি এলাকাতেই সদরের প্রার্থী বাদ দিয়ে কেন তুলনামূলক কম পরিচিতদের টিকিট দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে দলের অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছে।
যদিও কর্মীদের একাংশের দাবি, নতুন প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছেন। মালতীপুর আসনের প্রার্থী আশীষ পেশায় কৃষক। মালতীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহদিপুরের বাসিন্দা তিনি। প্রায় চারদশক বিজেপির সক্রিয় কর্মী। ছাত্র সংগঠন এবিভিপি থেকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তবে তিনি জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ কখনও পাননি। আশীষ বলেন, শীর্ষ নেতৃত্ব আমার উপর আস্থা রেখেছে। দলের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাব।
মালতীপুর আসনে গতবার বিজেপি প্রার্থী ছিলেন মৌসুমী সাহা। তিনি এদিন প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারেও ছিলেন। বলেন, দল যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা চূড়ান্ত। বর্তমানে দলের কোনো দায়িত্বে নেই। যাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁর হয়ে ভোট প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। আমাকে প্রার্থী করা হয়নি বলে ক্ষোভ নেই।
২০১৬ ও ২০২১ সালে চাঁচল কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন সদর এলাকার ব্যবসায়ী দীপঙ্কর রাম। দু’বারই তিনি পরাজিত হয়েছেন। এবার এই আসন থেকে সদর এলাকা বাদ দিয়ে গ্রামাঞ্চল থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। চাঁচলের কলিগ্রামের বাসিন্দা রতন দাস প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক ইতিহাস পুরনো। কলিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে তিনি দু’বারের সদস্য। একবার প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে পঞ্চায়েত সদস্য ও দলের উত্তর মালদহের সহসভাপতি। সদর এলাকায় তাঁর প্রভাব না থাকলেও বিধানসভার ১২টি অঞ্চলের গ্রামাঞ্চলে যথেষ্ট রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, যোগ্য মনে করেই দল সুযোগ করে দিয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বকে ধন্যবাদ। সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করব।
তবে, টানা দুইবারের প্রার্থী দীপঙ্করকে কেন বাদ দেওয়া হল এবার, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। দলের একাংশের দাবি, তিনি গতবার পরাজিত হয়ে দল থেকে সরে ব্যবসার কাজে মন দিয়েছেন। দীপঙ্কর বলেন, দল দু’বার আমার পরীক্ষা নিয়েছে। কিন্তু জিততে পারিনি। অন্যদেরও সুযোগ দেওয়া উচিত। রতুয়া বিধানসভায় পুরনো মুখেই ভরসা রেখেছে বিজেপি নেতৃত্ব। গতবার ওই আসনে প্রার্থী ছিলেন সামসির বাসিন্দা অভিষেক সিঙ্ঘানিয়া। তিনি বলেন, রতুয়া এলাকা এখনও পিছিয়ে। পরিবর্তনের জন্য দল আমাকে ফের সুযোগ দিয়েছে।