নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বিতর্কিত এক তৃণমূল নেতাকে এলাকায় ‘সুস্থভাবে’ থাকার নিশ্চয়তা দিতে প্রায় ১ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল! বিজেপি যুব মোর্চার সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা ওই টাকা চেয়েছিলেন। কোনো বিরোধী দল নয়, এই অভিযোগ খোদ গেরুয়া শিবিরের মণ্ডল স্তরের নেতা-নেত্রীদের। তবে শুধু অভিযোগেই তাঁরা থেমে থাকেননি। পানিহাটির এক রেস্তরাঁয় অভিযান চালিয়ে দলের যুবনেতার সঙ্গে ওই তৃণমূল নেতাকে তাঁরা পাকড়াও করেন। সেখান থেকে ওই তৃণমূল নেতা পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে মারধর করা হয়। ঘটনার ভিডিয়ো বিজেপি কর্মীরাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেন (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)। এই ঘটনায় বিজেপির উত্তর শহরতলি সাংগঠনিক জেলায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও টাকা চাওয়ায় অভিযুক্ত যুবমোর্চা নেতা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন।
খড়দহ বিধানসভার বিলকান্দা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতা শেখ রাজা। সাজিরহাটি এলাকায় তাঁর একটি সেলুন রয়েছে। তৃণমূল জমানায় ওই লাক্সারি সেলুনে তাঁকে কম দেখা যেত। কর্মীরা সেটি চালাতেন। কারণ, তিনি ছিলেন এলাকায় জমি কেনা-বেচা সিন্ডিকেটের অন্যতম পান্ডা। ওই এলাকা খড়দহ বিধানসভায় বিজেপির চার নম্বর মণ্ডলের অন্তর্গত। গত সপ্তাহে ওই মণ্ডলের যুবমোর্চা সভাপতি হয়েছেন বিশ্বজিৎ সেন ওরফে বিশ্ব। শুক্রবার রাতে শেখ রাজার ওই সেলুনে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। তারপর শনিবার পানিহাটির কাঠগোলা মোড়ের এক রেস্তরাঁয় শেখ রাজা ও বিশ্ব সেনকে একসঙ্গে বসে কথা বলতে দেখা যায়। সেই খবর ওই মণ্ডলের সভাপতি, মহিলা মোর্চার সভানেত্রীসহ অন্যান্যদের কাছে পৌঁছে যায়। তাঁরা মোবাইলে ভিডিয়ো ক্যামেরা ‘অন’ করে সেই রেস্তরাঁয় পৌঁছে যান। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি নেতা-নেত্রীদের চাপে স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন শেখ রাজা। তিনি বলছেন, ‘ওই যুবনেতা বলেছিল, নতুন দায়িত্বে এসেছে। খরচপাতি অনেক আছে। টাকা লাগবে।’ প্রথমে তিনি টাকার অঙ্ক বলতে চাননি। পরে দাবি করেন, ১ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল তাঁকে। রেস্তরাঁ থেকে বেরিয়ে শেখ রাজা পালানোর চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়ায়। তাঁকে রাস্তায় দৌড় করিয়ে মারা হয়। পরে ঘোলা থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। যদিও যুবমোর্চার সভাপতি বিশ্ব সেন বলেন, ‘আমি ওই রেস্টুরেন্টে মেয়ের জন্য খাবার নিতে গিয়েছিলাম। শেখ রাজা সামনের টেবিলে বসেছিল। আমি পিছনের টেবিলে ছিলাম। আমাকে দেখে সে উঠে এসে আমার টেবিলে বসে তার সমস্যার কথা বলতে শুরু করে। সেই সময় চক্রান্ত করে মণ্ডল সভাপতিসহ বাকিরা এসে মিথ্যা ভিডিয়ো বানায়।’ জেলা বিজেপি সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, ‘অভিযোগ হলে দল খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করবে। তবে এভাবে খোলা জায়গায় বসে কেউ এসব ডিল করতে যায় বলে মনে হয় না।’