সংবাদদাতা, বোলপুর: কথায় বলে ‘যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ।’ রাজ্যে বিরোধী থাকাকালীন প্রত্যেক বিজেপি নেতা তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধীদের মনোনয়নে বাধা দেওয়ার গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ করতেন। এখন রাজ্যের ক্ষমতাসীন সেই বিজেপিরই এক যুব নেতা সরাসরি পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন!
বোলপুরের ওই যুব নেতার এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের ছ’মাসের মধ্যেই দলের একাংশের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। তার মধ্যেই রবিবার বোলপুর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার উদ্যোগে ইলামবাজারের শীর্ষায় বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চে দলের বোলপুর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চা সভাপতি শম্ভুনাথ রায় এমন হুঁশিয়ারি দেন। এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিল ইলামবাজার ব্লক নেতৃত্ব। সেখানেই শম্ভুনাথবাবু বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি কর্মীদের বিরক্ত করলে, বিরোধীরা নির্বাচনে মনোনয়ন পর্যন্ত করতে পারবেন না। মনোনয়নের জায়গা পর্যন্ত পৌঁছাতেই পারবেন না।
তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, যদি এখানে কেউ বিরক্ত করে তার নামের তালিকা আমাদের দিন। আমরা ব্যবস্থা নেব। আগামী ১০ বছরের জন্য তাঁরা রাজনীতি করতে পারবে না।
এদিন ইলামবাজার এলাকায় বালি তোলা নিয়েও সরব হন শম্ভুনাথ। তিনি বলেন, বিজেপির এটা সংস্কৃতি নয়। এগুলি করছে যাঁরা গত ৪ মে দুপুর ১২টার পর তাঁরা সব বিজেপি হয়েছে।
বিজেপি যুব নেতার এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে বিরোধীরা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচন এখন ঢের দেরি। তার আগে বাংলার গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে যাবে। যারা এই ধরনের কথা বলে, তাঁরা দায়িত্বে থাকে কী করে সেটাই সন্দেহজনক। এর জবাব মানুষ আগামীদিনে দেবে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ বলেন, বিজেপি মানুষের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না বলেই আজ এই ধরনের কথাবার্তা বলতে হচ্ছে ওদের। অন্যদিকে, কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সঞ্জয় অধিকারী বলেন, বিজেপি ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে আর তারপর থেকেই নানা রকমের অসংলগ্ন কথা বার্তা শুরু করেছে।



