সংবাদদাতা, রানাঘাট: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শান্তিপুরে বিজেপির কাছে পরাজিত হয়েছিল তৃণমূল। তার কয়েকমাসের মধ্যেই অবশ্য উপনির্বাচনে তারা আসনটি পুনরুদ্ধার করে। এবার বিধানসভা নির্বাচনে ফের বড়ো ব্যবধানে বিজেপির কাছে পরাজিত হয়েছে জোড়াফুল শিবির। শান্তিপুর শহরে বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই পদ্ম শিবির তৃণমূলকে পিছনে ফেলে লিড নিয়েছে।
শান্তিপুর পুরসভার ২৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ছ’টি ওয়ার্ডে তৃণমূল লিড পেয়েছে। সেগুলি মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিভিন্ন ওয়ার্ড। বাকি ১৮টি ওয়ার্ডেই বিজেপি লিড পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষের নির্বাচনি কেন্দ্র ৭নম্বর ওয়ার্ড। যে ১৪নম্বর ওয়ার্ডে চেয়ারম্যানের বাড়ি, সেখানেও পিছিয়ে তৃণমূল। একই ছবি ভাইস চেয়ারম্যানের ১২নম্বর ওয়ার্ডে। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী ১৩নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ওই ওয়ার্ডেরই কাউন্সিলার ব্রজকিশোরবাবুর বাবা প্রশান্ত গোস্বামী। একই ওয়ার্ডে থাকেন আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি সনৎ চক্রবর্তী। এই ওয়ার্ডেও তৃণমূল পিছিয়ে পড়েছে। শহর তৃণমূল সভাপতি বৃন্দাবন প্রামাণিকের ১৬নম্বর ওয়ার্ডেও ঘাসফুল শিবিরের অবস্থা তথৈবচ।
শান্তিপুর পুরসভায় পাঁচজন চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শুভজিৎ দে ২০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর বাড়ি। দু’টি জায়গাতেই বিজেপি লিড পেয়েছে। ১৫নম্বর ওয়ার্ড, চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল সদস্য নরেশলাল সরকারের ১৯নম্বর ওয়ার্ডেও বিজেপি এগিয়ে। নরেশবাবু জোড়াফুলের প্রাক্তন শহর সভাপতি। চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল সদস্যা নাজিরা বেগমের ২৩নম্বর ওয়ার্ড এবং বিকাশ সাহার ২৪নম্বর ওয়ার্ডে অবশ্য তারা লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। শান্তিপুর শহরের মধ্যে ৩, ৯, ১১, ২২, ২৩ এবং ২৪নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল লিড পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলি জোড়াফুল শিবিরকে লিড দিয়েছে। কিন্তু, শুধু সংখ্যালঘু ভোটের উপর নির্ভর করে তৃণমূলের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক মহলের দাবি, গত পুরভোটে শান্তিপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বুথ দখল, ছাপ্পা ও রিগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এছাড়া, আরজি কর কাণ্ড ও নিয়োগ-দুর্নীতি শহরের ভোটারদের প্রভাবিত করেছে। যার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে শান্তিপুর শহরের ভোটে।
আবার বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সিপিএমের ভোট অনেকটাই কমে যাওয়ায় তৃণমূলের এই পরাজয় হয়েছে। গত উপনির্বাচনে শান্তিপুর শহরে সিপিএম যথেষ্ট ভোট পেয়েছিল। সেই ভোটেরই একটা বড় অংশ এবার বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে। তৃণমূলের শান্তিপুর শহর সভাপতি বৃন্দাবন প্রামাণিক অবশ্য এমন ফলাফলের জন্য ধর্মীয় রাজনীতিকে দায়ী করেছেন। বিজেপি নেতা সুব্রত কর বলেন, মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভুল বুঝিয়ে শান্তিপুরে কয়েকটি ওয়ার্ডে তৃণমূল লিড পেয়েছে। সংখ্যালঘু মানুষজন এখন তাঁদের ভুল বুঝতে পারছেন। আগামী দিনে এই ছ’টি ওয়ার্ডেও তৃণমূলের লিড থাকবে না।