সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ঘটনার তিনদিন পরও নবদ্বীপে বিজেপি সমর্থক খুনে জড়িত কেউ ধরা পড়েনি। ক্ষোভে ফুঁসছেন বিজেপি কর্মীরা। পরিবারের দাবি মেনে মৃত সঞ্জয় ভৌমিকের দেহ ময়না তদন্ত হয় কল্যাণী এইমসে। শনিবার বিকালে তাঁর দেহ নবদ্বীপে আনা হয়। বিজেপির দক্ষিণ মণ্ডল কার্যালয়ের সামনে থেকে শোক মিছিল করে দেহটি সঞ্জয়বাবুর প্রাচীন মায়াপুরের বাড়িতে আনা হয়। এ দিন সঞ্জয়বাবুর মৃতদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকজন ও পড়শীরা। মৃতের বাড়ির কাছে ডিউটিরত পুলিশ কর্মীদের দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এদিন মিছিলে যোগ দেন রানাঘাট উত্তর পশ্চিমের বিধায়ক পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়, রানাঘাট উত্তর-পূর্বের বিধায়ক অসীম বিশ্বাস এবং কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক আশিস বিশ্বাস প্রমুখ।
এদিনই নবদ্বীপ আদালতে গোপন জবানবন্দি দেন নিহত সঞ্জয়বাবুর মা। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন মধ্যরাতে সঞ্জয়বাবুর বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ওঠে। হাসপাতালে নিয়ে যেতেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ২০ ঘণ্টা বাড়িতে পড়ে থাকার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর ভাইকে পিটিয়ে মেরেছে বলে অভিযোগ তোলেন সঞ্জয়বাবুর দিদি। তিনি চারজনের নামে থানায় এফআইআর করেন। কিন্তু, পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিজেপি নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অপর্ণা নন্দীর নেতৃত্বে একপ্রস্থ বিক্ষোভ হয়। অভিযুক্তদের না ধরলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বলে তিনি হুমকি দেন। অপর্ণাদেবী বলেন, এখনও পর্যন্ত দোষীদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ। আগামী সোমবার আমরা বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করতে চলেছি। নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, শান্ত নবদ্বীপে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। মিথ্যা অপপ্রচারে মানুষ বিশ্বাস করবে না। বিজেপির লোকই ওনাকে মেরেছে। বাড়িতে সঞ্জয়ের দেহ আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা। নিজস্ব চিত্র