


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ভূতুড়ে ভোটার খুঁজতে তৃণমূল আসরে নামতেই বিজেপি নেতৃত্ব কটাক্ষের সুর চড়াতে শুরু করেছিলেন। যদিও তৃণমূলের দেখানো পথেই বীরভূমে ভূতুড়ে ভোটার খুঁজতে এবার আসরে নামল জেলা বিজেপি। রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে জেলা বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চা সহ দলীয় নেতৃত্ব দাবি করেন, দুবরাজপুর এলাকায় প্রায় ১৭জন ভূতুড়ে ভোটার রয়েছে। সেইসঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বহু মৃতের নাম এখনও বাদ যায়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সেই সংখ্যাও ৬০ পেরিয়েছে। ঘটনায় প্রশাসনিক কর্তাদের কাজে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। সেইসঙ্গে ভূতুড়ে ভোটার ইস্যুতে বিজেপি নেতৃত্ব শাসকদল তৃণমূলকেও একহাত নিয়েছে। উল্টোদিকে শাসক দলের নেতাদের দাবি, বিজেপি মানুষের মন জয় করতে ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে। ভূতুড়ে ভোটার ইস্যুতে জেলাজুড়ে ফের একবার রাজনৈতিক তর্জা শুরু হয়েছে।
দলনেত্রীর নির্দেশের পরই জেলায় জেলায় ভূতুড়ে ভোটার খোঁজার কাজ শুরু করে তৃণমূল। বীরভূম জেলাতেও দলের নেতা-কর্মীরা একাধিক ভূতুড়ে ভোটার সহ ভোটার তালিকায় থাকা নানা গরমিল খুঁজে বের করেছেন। যদিও এই ঘটনায় শুরু থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব শাসক শিবিরকে কটাক্ষ করে আসছিল। বিজেপির দাবি ছিল, তৃণমূল সমুদ্রে ছিপ দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করছে। যদিও সেই বিজেপিই এবার ভূতুড়ে ভোটার খুঁজতে মাঠে নেমেছে। বিজেপির অভিযোগ, দুবরাজপুর ব্লকের লক্ষ্মীনারায়ণপুর পঞ্চায়েতের ঘাট গোপালপুরে মোট ১৭জন ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেসব ভোটারের একাংশের এপিক নম্বরের হদিস প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে মিলেছে। সেইসঙ্গে জেলার সিউড়ি-১, বোলপুর, খয়রাশোল ব্লকেও ভোটার কার্ড রয়েছে। সেক্ষেত্রে অবশ্য এপিক নম্বর আলাদা রয়েছে। বিজেপি নেতাদের আরও অভিযোগ, ওই ১৭জন ভোটার শাসক ঘনিষ্ঠ। এমন ভোটারদের হাতিয়ার করেই তৃণমূল ভোটে বাজিমাত করে।
বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি মোতাহার খান বলেন, ভূতুড়ে ভোটারের সাহায্য নিয়েই তৃণমূল একাধিক ভোটে জয় পেয়েছে। প্রশাসনিক উদাসীনতার জেরেই এসব হচ্ছে। জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ভূতুড়ে ভোটার খোঁজার ক্ষেত্রে আমাদের ছেলেরা পথে নেমে কাজ করছে। সেই কাজ চলছে।