


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বিধানসভা ভোটের আগে নন্দীগ্রামে বিজেপিতে ভাঙন শুরু হল। শুক্রবার নন্দীগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপির সদস্যা মধুশ্রী দাস মাইতি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন। এর আগে মধুশ্রীর দাদা তথা বিজেপির যুব মোর্চার জেলা নেতা দেবাশিস দাস পদ্মপার্টি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। এদিন মধুশ্রীও বিজেপি ছাড়লেন। তাঁর হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সুজিত রায়, হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল প্রমুখ। দলবদলের সময় সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের নন্দীগ্রাম-২ ব্লক কোর কমিটির কনভেনার সুনীল জানা, বিরুলিয়া অঞ্চল সভাপতি অরুণাভ ভুঁইয়া প্রমুখ।
২০২৩সালে নন্দীগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতি দখল করে বিজেপি। মোট ২১টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১৪টি এবং তৃণমূল সাতটিতে জয়ী হয়। মধুশ্রী বিরুলিয়া পঞ্চায়েতের আটটি বুথ থেকে জয়ী হয়েছিলেন। ওই বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতও বিজেপির দখলে। গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং বিধানসভা বিজেপির হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয়স্তরে উন্নয়ন সেভাবে হয়নি বলে মধুশ্রীর দাবি। তাই নিজের এলাকার উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে শাসকদলে যোগদানের সিদ্ধান্ত। পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপির থাকা সত্ত্বেও বিরুলিয়ার মতো জায়গায় বিজেপির এই ভাঙন গেরুয়া শিবিরের কাছে বড় ধাক্কা।
২০২৫সালে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে উপভোক্তা বাছাই নিয়ে বিরুলিয়ায় বিজেপির পঞ্চায়েত স্বজনপোষণ করেছে বলে ব্লক প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল। তার ভিত্তিতে অনেক বাড়িতে পুনরায় চেকিং হয়। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি এনিয়ে বেশকিছু অভিযোগ বিডিওর কাছে জমা করেছিলেন। এনিয়ে বিডিওর সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বও সামনে এসেছিল। তারপর আচমকা সেই বিডিও আলিপুরদুয়ারে বদলি হন। এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সুজিতবাবু বলেন, বিরুলিয়ায় পাকাবাড়ি থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বিজেপি কর্মী-সমর্থক হওয়ায় অনেকে বাংলার বাড়ির টাকা পেয়েছেন। অথচ, মাটির বাড়িতে থাকা গরিব মানুষের নাম বাদ চলে গিয়েছে। বিজেপি নেতার অঙ্গুলিহেলনে এমনটা হয়েছে। আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান স্কিমের মাধ্যমে বিরুলিয়া পঞ্চায়েতে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। সারা নন্দীগ্রামজুড়ে দুর্নীতি চলছে। এনিয়ে অনেকের মধ্যেই ক্ষোভ ও অভিমান হচ্ছে। তাই তাঁরা তৃণমূলে যোগ দিতে চাইছেন। শনিবার থেকে নন্দীগ্রামে জয়েনিং সভা শুরু হবে। আরও অনেকে তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন।
এদিন তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর মধুশ্রী বলেন, উন্নয়নের কাজ এখনও অনেক বাকি। গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি সেভানে নজর দিচ্ছে না। উন্নয়নের কাজে আন্তরিকতার অভাব টের পাচ্ছি। তাই আমার নিজের নির্বাচিত এলাকায় উন্নয়নের লক্ষ্যে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছি।
বিজেপির স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য অরূপ জানা বলেন, অনেক কষ্ট করে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় জিতিয়েছিলাম। অথচ, এখন দল ছেড়ে চলে গেলেন। খুবই আফশোসের বিষয়। মধুশ্রীর দাদা দেবাশিস দাস একসময় আমাদের দলের যুব মোর্চার জেলা নেতা ছিলেন। তিনি আগেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তারপর তাঁর বোন এদিন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তাঁর এই দলবদলে পার্টির কোনও ক্ষতি হবে না।