ভোপাল: ঘড়ি চুরির সন্দেহে মধ্যপ্রদেশে ১৪ বছরের দুই কিশোরের উপর নারকীয় অত্যাচার। পানধুরনা জেলার মোহগাঁওয়ের বাসিন্দা ওই দুই নাবালককে উল্টো করে ঝুলিয়ে বেদম মারধর করা হয়। সেই অবস্থাতেই তাঁদের নাকের সামনে লঙ্কা পুড়িয়ে ধোঁয়াও দেওয়া হয়। ৩১ অক্টোবরের এই ঘটনার ভিডিও রবিবার প্রকাশ্যে আসে। বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের এই অমানবিক ঘটনার প্রতিবাদে নিন্দার ঝড় উঠেছে। পানধুরনার পুলিস সুপার সুন্দর সিং কানেশ জানিয়েছেন, এই ঘটনায় মূল দুই অভিযুক্ত সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অত্যাচারের কড়া নিন্দা করেছেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথও। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, সভ্য সমাজে এমন ঘটনা ঘটে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।
Advertisement
মোহগাঁও থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই দুই কিশোর গ্রামের একটি বাড়িতে টাকা ফেরত্ দিতে গিয়েছিলেন। সেই সময় তারা একটি ঘড়ি চুরি করে বলে অভিযোগ। কিন্তু পরে দুজনেই ভুল বুঝতে পেরে ঘড়িটি সেই বাড়িতে রেখে আসতে যায়। নিখিল কালাম্বের ও সুরেন্দ্র বাওয়ানকার নামে স্থানীয় দুই ব্যক্তি কিশোরদের ঘড়িটি রাখতে দেখে। এরপরই নিখিল ও সুরেন্দ্র ওই দুই কিশোরকে জোর করে একটি গ্যারাজে নিয়ে যায়। তারপরই শুরু হয় অত্যাচার। সমাজ মাধ্যমে যে ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, এক কিশোরের পায়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তারস্বরে কাঁদছে ওই কিশোর। আরেক ব্যক্তি অন্য কিশোরের পা বাঁধছে। কিছুক্ষণ পর জ্বলন্ত কয়লার উপর লঙ্কা দিয়ে কিশোরদের মাথার নীচে রাখা হচ্ছে। ঘটনার পরেও ভয়ে ওই দুই কিশোর বাড়িতে কিছুই জানায়নি। কিন্তু অন্যতম অভিযুক্ত সুরেন্দ্রই নির্যাতনের পুরো ঘটনা রেকর্ড করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছড়াতে শুরু করে। এক কিশোরের বাবার ফোনেও সেই ভিডিও আসে। তিনি ছেলেকে প্রশ্ন করে বিষয়টি জানতে পারেন। ছেলেকে নিয়ে থানায় গিয়ে তিনি পুলিসের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।



