


মঙ্গল ঘোষ, পুরাতন মালদহ: গাজোল বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ দাস। তাঁর বাড়ি ইংলিশবাজার শহরে। গাজোল থেকে ইংলিশবাজারের দূরত্ব ২৫ কিমি। সেজন্য প্রসেনজিৎকে ‘পরিযায়ী প্রার্থী’ বলে কটাক্ষ করলেন গাজোলের বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী চিন্ময় দেব বর্মন। শুধু তাই নয়, ওই বিধানসভা থেকে এত পথ অতিক্রম করে মানুষ কীভাবে শংসাপত্র এবং সইয়ের জন্য ছুটে যাবেন? এমন প্রশ্ন তুলে ধরে বিষয়টিকে এবারের ভোটে ইস্যু করছে বিজেপি। আগামী দিনে জনসভায়, বুথে বুথে বিষয়গুলি তারা তুলে ধরবে বলে জানিয়েছে বিজেপি।
প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই গাজোলের তৃণমূল প্রার্থীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেনি। বৃহস্পতিবার ফের বিষয়টি নিয়ে তাঁকে ফোন করা হলেও তিনি কেটে দেন। মেসেজের কোনো উত্তরও দেননি। তবে তৃণমূলের মালদহ জেলা মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, তৃণমূল গাজোলে জিতবে। তারপর সেখানে বিধায়কের অফিস হবে। দ্বিতীয় বাড়িও হবে। ২৪ ঘণ্টা তৃণমূলের বিধায়ককে পাওয়া যাবে। পরিষেবা পেতে কোনো সমস্যা হবে না।
উল্লেখ্য, মালদহের মধ্যে গাজোল বিধানসভা বেশ বড়। সেখানে ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। ওই বিধানসভার শেষ প্রান্তে উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলার সীমানা রয়েছে। সেখানে ময়না, দেবীদহ, চাকনগর গ্রাম গাজোল সদর থেকে অনেকটা ভিতরে। বিশেষ করে চাকনগর থেকে গাজোলের দূরত্ব ২৩ কিমি। এনিয়ে গাজোলের বিদায়ী বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মন বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বাংলাকে পরিযায়ী হাব তৈরি করেছেন। ঠিক তেমন ভাবেই গাজোলে তৃণমূলের পরিযায়ী প্রার্থী দিয়েছেন। শুধু বিজেপি নয়। গোটা বিধানসভার ভোটাররা এটাকে ইস্যু করছেন। বাইরে থেকে কাউকে নিয়ে এসে প্রমাণ হল গাজোলে তাদের যোগ্য প্রার্থীর অভাব রয়েছে। তাঁর তো ইংলিশবাজারে বাড়ি। সেখানে থাকেন, মানুষ কে তো সেখানে সার্টিফিকেট নিতে যেতে হবে। পালটা তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র বলেন,আমাদের সর্বকনিষ্ঠ গাজোলের প্রার্থী। ছাত্র, যুব রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। দলের যোগ্য প্রার্থী। সর্বোচ্চ নেতৃত্ব তাঁকে প্রার্থী করেছে মানুষের কাজ করার জন্য। ভালো কাজ করার মানসিকতা তাঁর রয়েছে। এখানে বিজেপি হারবে। ওদের দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। নিজের দলের কেন্দল চাপা দিতে বিজেপি এমন মন্তব্য করছে।