নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকাল থেকেই বাঘাযতীন-রানিকুঠি রুটের অটো পাওয়া যাচ্ছে না। অগত্যা সাধারণ যাত্রীদের ভরসা রিকশ। রুটের অটোচালকদের অভিযোগ, শনিবার রাতে রানিকুঠির বোর্ডে টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর প্যাডে লেখা একটি চিঠি সেঁটে এক ব্যক্তি ওই রুটে অটো চালাচ্ছেন। বাঘাযতীন-রানিকুঠি রুটে অন্য রুটের পারমিট থাকা ওই চালককে অটো চালাতে বাধা দেন চালকরা। বচসার শুরু সেখানেই। অটোচালকদের আরও অভিযোগ, বেলার দিকে বিজেপির বাইক বাহিনী এসে তাঁদের মারধর করে। তার জেরে জখম চারজনকে বাঘাযতীন হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে বিধায়কের বক্তব্য, মানবিকতা বলে কি কিছু থাকবে না? কেন ওই গরিব অটোচালককে অটো চালাতে দেওয়া হবে না? বিজেপির অভিযোগ, বিধায়কের বিরুদ্ধে কটুক্তি করা হয়েছে। সিটু-তৃণমূল মিলে এসব করছে। তাদের ক্ষমা চাইতে হবে।
উত্তেজনা বাড়তে থাকলে বাম শ্রমিক সংগঠন সিটু কলকাতা জেলার নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছন। তাঁদের অভিযোগ, আমরা অটো চালাতে চেয়েছিলাম। বিজেপির বাইক বাহিনী রানিকুঠিতে এসে হামলা করে। ইতিমধ্যেই রুটের ১১৪ জন অটোচালক সই করে গল্ফগ্রিন থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। অটোচালকদের বক্তব্য, ওই অটোর পারমিট রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোচরণ থেকে ধামুয়া পর্যন্ত। সেই অটো কীভাবে এই রুটে চলতে পারে? বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী বলেন, ‘ওই ছেলেটির বাড়ি এখানেই। গরিব ছেলেটি আমাকে এসে অনুরোধ করেন। আসলে ওদের তোলাবাজি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই এত রাগ। ওরা বলছে, আমাকে মানবে না। আমি তো সকলের অভিভাবক। ৪ মে’র পর বিজেপি হয়েছে, এমন লোকও আছে। সিটু এসব করছে। তার সঙ্গে তৃণমূলও আছে।’ সিটুর কলকাতা জেলার নেতা গৌর দাস বলেন, ‘বিধায়কের চিঠি এনে বলা হচ্ছে, অটো চালাতে দিতে হবে। আমরা বেআইনি অটো চলতে দিতে পারি না। কিছু হলে তার দায় কে নেবে? আমি নিজে বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছি। ১২টা নাগাদ বিজেপির বাইক বাহিনী এসে হামলা চালায়। আহত অটোচালকদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। এদিন সব অটোচালক এক হয়েছেন। আমরা তো অটো চালাতেই চেয়েছিলাম।’
রবিবার সকাল ৯টা থেকে এই রুটের অটো বন্ধ ছিল। ফলে, এলাকার সাধারণ যাত্রীদের বিপাকে পড়তে হয়। অটোচালকদের সাফ বক্তব্য, ওই অটোচালককে রুট থেকে সরাতেই হবে।-নিজস্ব চিত্র