


সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: তাঁকে বলা হয় মাত্র এক বছরের বিধায়ক। এক বছর সময়ের বিধায়কের কাছে উন্নয়ন নিয়ে সেই অর্থে মানুষের তেমন প্রত্যাশাও থাকে না। একজন এমএলএ’র বিধায়ক তহবিলে বছরে ঢোকে ৭০ লক্ষ টাকা। জয়প্রকাশ টোপ্পো এখনও পর্যন্ত তাঁর বিধায়ক তহবিলে পেয়েছেন ৩৫ লক্ষ টাকা। তারই মধ্যে তিনি ৩২ লক্ষ টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে খরচ করে ফেলেছেন।
একুশের বিধানসভা ভোটে মাদারিহাট থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির মনোজ টিগ্গা। চব্বিশের লোকসভা ভোটে দল তাঁকে আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করে। মনোজ টিগ্গা বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। তারজন্য ২০২৪ সালের নভেম্বরে মাদারিহাট বিধানসভার উপনির্বাচন হয়।
জয়প্রকাশ টোপ্পো বলেন, আমি তো মাত্র এক বছরের বিধায়ক। পূর্ণ সময়ের বিধায়ক নই। ফলে মাত্র এক বছরে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। আমার বিধানসভার মানুষও সেটা জানে। তাও এক বছরে আমার বিধায়ক তহবিলের ৩৫ লক্ষ টাকার মধ্যে ৩২ লক্ষ টাকা খরচ করেছি বিধানসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের খাতে। আর আমার আগে চার বছর যিনি বিধায়ক ছিলেন তিনি তাঁর বিধায়ক তহবিলের অর্থ কোথায় খরচ করেছেন বলতে পারব না। মানুষই সেটা বলতে পারবে।
চব্বিশের লোকসভা ভোটের পরপরই ওই বছরের নভেম্বেরে মাদারিহাট বিধানসভার উপনির্বাচন হয়। উপনির্বাচনে তৃণমূলের জয়প্রকাশ টোপ্পো ২৮ হাজারেরও বেশি ভোটে বিজেপির রাহুল লোহারকে ধরাশায়ী করেন। ফলে জয়প্রকাশ টোপ্পো সেই অর্থে পূর্ণ সময়ের বিধায়ক নন।
বিধায়কের দাবি, আমার বিধানসভা এলাকা বনাঞ্চল ঘেরা। ফলে এখানকার মানুষের পথবাতির চাহিদা বেশি। কারণ রাতে বন্যন্তুর লোকালয়ে চলে আসে। সেই জন্য সাঁকোয়াঝোরা-১ ও বিন্নাগুড়ি অঞ্চলে কয়েকটি হাইমাস্ট দিয়েছি। তবে স্টেট ফান্ড ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের অর্থে মাদারিহাটের চা বাগানগুলিতে প্রচুর রাস্তা, পানীয় জল প্রকল্প ও নদী ভাঙনের কাজ হয়েছে। বাগানে চা সুন্দরীর ঘর, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্রেশ হয়েছে। বাগানগুলিতে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের অর্থেও প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে।
এমপি মনোজ টিগ্গার অবশ্য পাল্টা দাবি, তৃণমূল মাদারিহাটে কলেজ ও গয়েরকাটায় গ্রামীণ হাসপাতাল সহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপনির্বাচনে জিতেছিল। আমরা জানতে চাই, তৃণমূলের সেই প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল। • জয়প্রকাশ টোপ্পো।