Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জমিহারা ও স্থানীয়দের কাজে না নেওয়ায় বিক্ষোভ বিজেপির

জমিহারা ও স্থানীয়দের কাজ দেওয়া হচ্ছে না। এলাকার শিক্ষিত ট্রেনিংপ্রাপ্ত যুবক যুবতীদের বাদ দিয়ে বহিরাগতদের কাজে নিয়োগ করা হচ্ছে।

জমিহারা ও স্থানীয়দের কাজে না নেওয়ায় বিক্ষোভ বিজেপির
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: জমিহারা ও স্থানীয়দের কাজ দেওয়া হচ্ছে না। এলাকার শিক্ষিত ট্রেনিংপ্রাপ্ত যুবক যুবতীদের বাদ দিয়ে বহিরাগতদের কাজে নিয়োগ করা হচ্ছে। এলাকায় বাড়ছে দূষণ। রঘুনাথপুর থানার লছমনপুর এলাকার একটি বেসরকারি স্টিল প্রস্তুতকারক কারখানার বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ আনা হয়। সেই সব অভিযোগকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার জমিহারা কয়েকটি পরিবারকে নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব কারখানার গেটে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি করেন। এদিন সকাল ১১ টা থেকে ২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি চলে। কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে অভিযোগগুলি খতিয়ে থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়। এদিন বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি ললিত আগরওয়াল, জেলা সম্পাদিকা মামনি বাউরি, বিজেপি কাউন্সিলার দীনেশ শুক্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমান রাজ্য সরকার রঘুনাথপুরে শিল্প হাব গড়ে তুলতে ‘জঙ্গল সুন্দরী কর্মনগরী’ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। সেই প্রকল্পে ইতিমধ্যে লছমনপুর এলাকায় একটি স্টিল প্রস্তুতকারক সংস্থার কারখানা গড়ে উঠেছে। যেখানে ওই সংস্থা কারখানার জন্য প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। প্রায় ৬০০ একর জমিতে নির্মিত এই প্রকল্পে বিভিন্নভাবে ৫,০০০-এর বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। কারখানা তৈরির জন্য এলাকার মানুষের কাছে জমি নেওয়া হয়েছিল। যে সমস্ত পরিবার জমি দিয়েছিল তাঁদের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, জমি দেওয়ার পরেও এখনো অনেক পরিবার চাকরি পায়নি। আবার কিছু জনকে সরাসরি কারখানায় বাদ দিয়ে কোম্পানির তত্ত্বাবধানে কাজ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সেই কাজের কোন স্থায়িত্ব নেই।

জমিহারা পরিবারদের মধ্যে আগইবাড়ি গ্রামের অজিত মণ্ডল, লছমনপুর গ্রামের ভজহরি গড়াই বলেন, কারখানা করার সময় জানানো হয়েছিল জমির পরিবর্তে চাকরি দেওয়া হবে। জলের দামে জমি দিয়েছিলাম। জমি চলে গিয়েছে। কিন্তু কাজ পাইনি। ফলে আন্দোলনে আসতে বাধ্য হয়েছি।

ললিতবাবু বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করছে। কারখানায় কাজ পেতে হলে সেখানে দালালদের নিয়ে তৈরি সংগঠনের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ওই সংগঠন শ্রমিকদের বেতন থেকে টাকা কেটে নেয়। কেউ প্রতিবাদ করলে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়। এলাকায় এখনো ৫০ জনের অধিক জমিহারা পরিবার কাজ পায়নি। স্থানীয়দের বাদ দিয়ে বহিরাগতরা কাজ করছে। শ্রমিকদের ওভারটাইম করতে হয়। আমরা বিভিন্ন দাবি জানিয়েছি। আগামী সাত দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।

কারখানার জিএম বিপুল পানিগ্রাহী বলেন, কারখানায় ৩৫০০ জন শ্রমিকের মধ্যে ২২০০ শ্রমিক পুরুলিয়া জেলার। যারা কাজ করছে কাউকে ওভারটাইম করতে হয় না। কারুর কাছে কোন অতিরিক্ত টাকা কাটা হয় না। সমস্ত নিয়ম মেনে কারখানায় কাজ হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ