


মৃত্যুঞ্জয় কর্মকার, হবিবপুর: হবিবপুর বিধানসভা এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। তাঁরা কেরালাম, বেঙ্গালুরু, পুনে, মুম্বই, রাজস্থান সহ বিভিন্ন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। ভোটের আগে তাঁদেরকে বাড়ি ফেরাতে ট্রেনের বগি বুক করার পরিকল্পনা করছে বিজেপি। এমনটাই জানিয়েছেন হবিবপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা এবারের প্রার্থী বিজেপির জোয়েল মুর্মু। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় জল্পনা ছড়িয়েছে। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও নিজেদের মতো করে ভোটের আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।
গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব ভোট। এবারে বিধানসভা ভোটে অংশ নিতে বাড়ি ফিরতে চাইছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। মালদহের হবিবপুর বিধানসভার প্রায় দশ হাজার শ্রমিক বর্তমানে ভিন রাজ্যে বিভিন্ন কাজে কর্মরত রয়েছেন। ভোটের আগে বাড়ি ফিরতে ট্রেনের টিকিট পাওয়া নিয়ে রীতিমতো সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা।
ইতিমধ্যেই ১২০০ শ্রমিক বাড়ি ফেরার জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে দাবি বিজেপির। সময়মতো ট্রেনের টিকিট না পেলে বিধানসভা ভোটে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে তাঁরা মনে করছেন। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিকাশ মুর্মু নামে এক পরিযায়ী শ্রমিক বলেন, বেঙ্গালুরু থেকে বাড়ি ফেরার জন্য কোনো ট্রেনের টিকিট পাচ্ছি না। আমরা অনেকেই এই সমস্যায় পড়েছি। বিজেপির দাবি, রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাবে প্রচুর মানুষকে ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজে যেতে হয়। ভিনরাজ্যে থাকার করণে বিভিন্ন উৎসব আনন্দে তাঁরা পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারেন না। এবারে গণতন্ত্রের উৎসবে উপস্থিত হওয়া নিয়ে তাঁদের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামীতে রাজ্যে বিজেপি সরকার এলে রাজ্যে প্রচুর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে কর্মসংস্থানের খোঁজে আর ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না। পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেনের টিকিট পেতে সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের নামের তালিকা তৈরি করা শুরু হয়েছে।
বিজেপি প্রার্থী জোয়েল মুর্মু বলেন, ইতিমধ্যেই ভিনরাজ্যের ১২০০ শ্রমিকের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক বাইরে রয়েছেন। ভোটের আগে তাঁদের বাড়ি ফেরাতে ট্রেনের বগি দেওয়ার বিষয়ে দলের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, ভোটাধিকার সকলের অধিকার। বিজেপি শাসিত রাজ্যে কাজে গিয়ে বহু পরিযায়ী শ্রমিকদের আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে। হবিবপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী অমল কিস্কু বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে আমরাও যোগাযোগ রেখেছি। ফেরানোর বিষয়টিতে আমরাও নজর রাখছি। সব মিলিয়ে ভোটের আগে বাড়ি ফেরার আশা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন বহু পরিযায়ী শ্রমিক। এখন দেখার, কত দ্রুত তাঁদের ফেরানোর ব্যবস্থা করা যায়।