


সংবাদদাতা, বালুরঘাট: কুমারগঞ্জ বিধানসভায় বালি পাচার, কাফ সিরাপ পাচার সহ অনুন্নয়নের ইস্যুতে সরব হয়েছে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কের বিরুদ্ধে চার্জশিট বানিয়ে যখন জোর প্রচার চালাচ্ছে গেরুয়া শিবির, তখন সেই চার্জশিটের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন কুমারগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল। কুমারগঞ্জ বিধানসভায় যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি তৃণমূল বিধায়কের। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক।
বিজেপি চার্জশিট পেশ করে তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, কুমারগঞ্জে ব্যাপক বালি পাচার চলছে। পুরো পাচার প্রক্রিয়া চলছে বিধায়কের মদতে। সম্প্রতি কুমারগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কাফ সিরাপ পাচারও বেড়েছে।
কুমারগঞ্জের অনেক রাস্তা পাকা হয়নি। সেতুও হয়নি। খুন, ধর্ষণের মতো ঘটনাও বেড়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে এই ইস্যু গুলিকে সামনে এনে প্রচারে নেমেছে বিজেপি।
যদিও বিজেপির আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিধায়ক তোরাফ। তিনি বলেন, বালি পাচারের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। কাফ সিরাপের বিরুদ্ধেও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে। বালি ও কাফ সিরাপ পাচারে তৃণমূলের কোনো কর্মী যুক্ত নয়। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এই কারবারে বিজেপির লোকেরাই যুক্ত। পাশাপাশি তৃণমূল বিধায়কের প্রশ্ন, সীমান্তে পাচার হয়ে থাকলে বিএসএফ কী করছে?
তাঁর বিধানসভা এলাকায় ঢালাও উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি তোরাফের। তৃণমূল বিধায়কের দাবি, ২০১১ সালের আগে কুমারগঞ্জ বিধানসভা এলাকার রাস্তাঘাট কেমন ছিল? এখন যেদিকে তাকাবেন, সেদিকেই পাকা রাস্তা। কুমারগঞ্জে একটি নতুন কলেজ, হিমঘরের জন্য রাজ্যের কাছে প্রস্তাবও পাঠিয়েছি।
যদিও বিজেপির দাবি, কুমারগঞ্জের অনেক রাস্তা এখনো কাঁচা, অনেক জায়গায় ব্রিজ তৈরি হয়নি। বিজেপির জেলা সম্পাদক রজত ঘোষ বলেন, আমাদের দেওয়া চার্জশিট একেবারে সত্য। কুমারগঞ্জে ব্যাপক বালি, কাফ সিরাপ পাচার হয়। এই কারবারে তৃণমূল যুক্ত। বিধায়কের মদতে সম্প্রতি তা বেড়েছে।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ বিধানসভা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখানে তৃণমূল জয়ী হয়। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেও কুমারগঞ্জ বিধানসভা থেকে ২৮ হাজার ভোটে লিড দেয় তৃণমূল। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তৃণমূলের এই শক্ত ঘাঁটিতে বিধায়ক তোরাফকে চাপে রাখতে এই কৌশল নিয়েছে পদ্মপার্টি।