Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রেলের জমি দখল করে বনগাঁয় পার্টি অফিস বিজেপির

মাঝমধ্যেই রেলের জমি জবরদখল করে রাখার অভিযোগ তোলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এনিয়ে তিনি সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধেও একাধিকবার অভিযোগ করেছেন।

রেলের জমি দখল করে বনগাঁয় পার্টি অফিস বিজেপির
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: মাঝমধ্যেই রেলের জমি জবরদখল করে রাখার অভিযোগ তোলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এনিয়ে তিনি সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধেও একাধিকবার অভিযোগ করেছেন। কিন্তু এবার সামনে এল ঠিক উল্টো ঘটনা! রেলের জমি-বাড়ি দখল করে চালু হয়েছে বিজেপির আস্ত পার্টি অফিস। কম গুরুত্বপূর্ণ কোনও দলীয় কার্যালয় নয়! ঠাকুরনগর রেল স্টেশনের পাশের পরিত্যক্ত অফিসার্স কোয়ার্টারেই চালু হয়েছে বিজেপির বনগাঁ সংগঠনিক জেলার কার্যালয়। শনিবার ওই বাড়ির তালা ভেঙে সেখানে পার্টির কাজকর্ম শুরু করে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমি-বাড়িতে কীভাবে বিজেপি পার্টি অফিস চলতে পারে? উল্লেখ্য, এতদিন বনগাঁ জেলার পার্টি অফিস চলত বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার বাড়ি থেকে। রেলের পরিত্যক্ত বাড়িতে পার্টি অফিস স্থানান্তরিত হওয়ার পর অশোকবাবুর সঙ্গে ভাড়া সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করেছে বিজেপি। মাসে ১৫ হাজার টাকা ভাড়ায় বিধায়কের বাড়িতে চলছিল অফিস। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় বিজেপির তরফে গোটা দেশের সব সাংগঠনিক জেলার নিজস্ব অফিস চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ রাজ্যে ২০১৭ সাল থেকে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট জেলার জনপ্রিয় কোনও জায়গায় পার্টি অফিস তৈরির কাজ শুরু হয়। এক্ষেত্রে দিল্লি থেকে ১ থেকে ৩ কোটি পর্যন্ত টাকাও এসেছে। এই মুহূর্তে বঙ্গ বিজেপির ৪৩টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশ জেলারই রয়েছে নিজস্ব পার্টি অফিস। অনেক জেলায় পার্টি অফিস তৈরির কাজ চলছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে জমি কেনার প্রক্রিয়া চলছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় কোটি টাকার বেশি খরচ করে পার্টি অফিসের জন্য জমি কিনেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। যদিও দশকের পর দশক ধরে কলকাতার যে জায়গায় বিজেপির প্রধান কার্যালয় চলত, সেই মুরলীধর সেন লেনের গেরুয়া অফিসও এখনও ভাড়ায় চলে। এই অবস্থায় বনগাঁর ক্ষেত্রে জমি কেনার পথে না হেঁটে কেন রেলের জমি দখল করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘পার্টি অফিস তৈরির টাকা নিয়ে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বহু টাকা নয়ছয় হচ্ছে।’ রেলের জমিতে পার্টি অফিস তৈরি সম্পূর্ণ বেআইনি বলে তোপ দেগেছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও। নরেন্দ্র মোদির জমানায় দেশের বহু জায়গায় এমন সব অবৈধ ঘটনা ঘটে চলেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ