


সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: আজ, শনিবার বিজেপির ব্রিগেড সভা। আসবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আগে শুক্রবার বিজেপির জেলা পার্টি অফিসে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কোনো তাপ-উত্তাপ নেই। কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে জেলার কয়েকজন শীর্ষ নেতার গাড়ি। তা দেখে মালুম হয়, ব্রিগেডের প্রস্তুতি দেখতে এসেছেন। কিন্তু, প্রস্তুতি পর্বে যাঁরা শক্তি সেই সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের আনাগোনা নেই। এমন ছবি দেখে দৃশ্যতই হতাশ নেতারা।
অথচ, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের সময় ছবিটা এমন করুণ ছিল না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গমগম করত পার্টি অফিস। নেতা-নেত্রীদের মুখে সারাক্ষণ থাকত চওড়া হাসি। পাঁচ বছরের ব্যবধানে এসব কিছুই উধাও। মোদির ব্রিগেডের ২৪ ঘণ্টা আগে শুনশান বিজেপির কার্যালয়। নেতাদের অবশ্য দাবি, প্রতি বুথ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাই, জেলা পার্টি অফিসে ভিড় নেই। পাশাপাশি, ঘরোয়া আলোচনায় একাধিক নেতা মেনে নিচ্ছেন ২০২১ সালে যে উচ্ছ্বাস-উন্মাদনা ছিল, এবার তা নেই। তা হলে বাংলা জয়ের স্বপ্ন? রাখঢাক না করেই পদ্মনেতাদের দাবি, খেলা হচ্ছে অন্যভাবে। দেখে নেবেন, এবার ভোটে তৃণমূলই তৃণমূলের শত্রু। আর এই শত্রুতাতেই পতন অনিবার্য।
রাজ্যে বিজেপির উত্থানভূমি বলা হয় আসানসোলকে। পড়শি দুর্গাপুরও কম যায় না। সেখানে বিজেপি বিধায়ক রয়েছেন। ফলত, ব্রিগেড-যাত্রায় এই দুই এলাকার দাপট থাকা স্বাভাবিক। অন্তত, রাজনৈতিক মহল এটাই মনে করে। সেই মতো প্রস্তুতিও নিয়েছেন জেলার নেতারা। তিনটি স্পেশাল ট্রেনে করে কর্মী, সমর্থকদের ব্রিগেডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বরাকর, আসানসোল ও দুর্গাপুর থেকে ১৫ হাজার লোক নিয়ে যাওয়ার টার্গেট দেওয়া হয়েছে জেলা নেতৃত্বকে। ব্রিগেডে মহিলাদের ভিড় করানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। তাই, প্রতি ট্রেনে দুটি করে ‘লেডিজ স্পেশাল’ কোচ থাকবে। লোক নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা কিন্তু মন্দ নয়। কিন্তু, কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসেই ভাটা! সেটাই বিজেপিকে বেশ ভাবাচ্ছে। তার উপর মহিলাদের আবার ব্রিগেডমুখী করতে কালঘাম ছুটছে নেতাদের। লক্ষ্যপূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এদিন, পার্টি অফিসে গিয়ে দেখা গেল, জেলা সভাপতি জেলার সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে ব্রিগেড-পরিকল্পনায় ব্যস্ত। আশপাশে তেমন কোনও ভিড় নজরে পড়েনি। জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, ‘এবার আমাদের ব্রিগেড প্রস্তুতি বুথস্তর পর্যন্ত চলে গিয়েছে। প্রতি বুথ থেকে পাঁচজন কর্মী ব্রিগেড যাবেন। তাঁদের নামের তালিকা আমাদের কাছে চলে এসেছে।’ তাই, পার্টি অফিসে কর্মী-সমর্থকদের ভিড় নেই—বলছেন বিজেপি নেতারা। মুখে বললেও ভিতরে ভিতরে তাঁরা যে বিচলিত, সেটা কথাবার্তাতেই বেশ স্পষ্ট। তা না হলে বঙ্গ-বিজয়ে তৃণমূলের ঘর শত্রু বিভীষণদের উপর ভরসা রাখতে হচ্ছে কেন? বিজেপির অনেক নেতাই এদিন বলছিলেন, তৃণমূলের অন্দরেই একটা চোরাস্রোত রয়েছে। ভোটে সেটা খরস্রোতা হয়ে উঠবে। সেটাই হবে আমাদের তুরুপের তাস।’ পদ্মনেতাদের এমন দাবি অন্তত শিল্পাঞ্চলের ক্ষেত্রে অমূলক নয়। কারণ, আসানসোলে তৃণমূলের ঘর শত্রুর অভাব নেই। সেটা একুশের ভোটে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন কুলটির প্রার্থী উজ্বল চট্টোপাধ্যায়, আসনসোল দক্ষিণের প্রার্থী সায়নী ঘোষ, দুর্গাপুর পশ্চিমের প্রার্থী বিশ্বনাথ পাড়িয়ালরা। শেষ মুহূর্তে এসে দলের একটা তৃণমূলের এই তিন প্রার্থীর সঙ্গে গদ্দারি করে বসেন। বিজেপি নেতাদের এবারও ভরসা ওই অংশের উপর। ‘সে গুড়ে বালি’—বলছেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু। একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘দলের মধ্যে থেকে কেউ এবার বিরোধিতা করবেন না। বিজেপি বরং নিজেদের চরকায় তেল দিক। কারণ, বাংলার মানুষ ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।’ ফাঁকা বিজেপির জেলা পার্টি অফিস। -নিজস্ব চিত্র