শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: জাল পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগে ক’দিন আগে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে বারাসতের বিজেপি নেতা ইন্দ্রজিৎ দে-কে। পরবর্তী তদন্তে উঠে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। পদ্মপার্টির এই নেতার নাম জড়িয়েছিল উত্তরবঙ্গের পাসপোর্ট কেলেঙ্কারিতেও। তার জন্য তাঁকে চারবার নিজাম প্যালেসে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই। কিন্তু তাঁকে গ্রেপ্তার বা কোনও কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটেনি তারা। বারাসত থানার পুলিস সেই বিজেপি নেতাকে পাকড়াও করতেই সামনে আসে এই খবর। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, এহেন অবৈধ কারবারিকে জেরা করেও কেন ছেড়ে দিল সিবিআই? বিজেপি নেতা বলেই কি তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি কেন্দ্রীয় এজেন্সি? বারাসতের তৃণমূল নেতা সজল ভট্টাচার্য বলেন, ‘সিবিআই বিজেপির তোতাপাখি! ইন্দ্রজিৎ বিজেপির সক্রিয় নেতা বলেই ওঁকে ছেড়ে দিয়েছে। বাংলার পুলিস গ্রেপ্তার করল।’ রাজ্য বিজেপির নেতা তাপস মিত্র বলেন, ‘দল এই ধরনের কাজ বরদাস্ত করে না। এখন নয়, আগে উনি দলে সক্রিয় ছিলেন।’
Advertisement
এই কারবারে ধৃত বিজেপি নেতার হাত অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তদন্তের জাল গোটাতে বুধবার তাঁকে আদালতে তুলে ফের নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে বারাসত থানা। ইন্দ্রজিৎ দে ২০২২ সালের পুরসভা নিবার্চনে বারাসতের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। বিজেপির এহেন পরিচিত মুখকে গত রবিবার আমতলার বাড়ি থেকে পুলিস গ্রেপ্তার করতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। প্রতিবেশী মামণি ঘোষ, সিজার মাইতিরা বলছেন, ‘উনি যে এতবড় দেশবিরোধী, জানা ছিল না। এই বিজেপি মুখে দেশপ্রেমের কথা বলে। আর সেই দলের নেতা বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশে সাহায্য করছে। ওঁর দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া দরকার।’ তাঁরা আরও জানালেন, বছরখানেক আগে থেকে এই বিজেপি নেতার চালচলন ও জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন নজরে আসে। এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন তিনি। তিনি একটি ব্যান্ডেরও মালিক। বিভিন্ন পানশালায় বাজায় সেই ব্যান্ড।
তদন্তকারীরা জেনেছেন, ভুয়ো নথি তৈরির কারবারে হাত পাকাতে পাকাতেই পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে তাঁর আনাগোনা বাড়ে। সেখানে সাধারণ মানুষের ফর্ম পূরণ করে দেওয়ার কাজ করতে করতে ‘দালাল’ হয়ে ওঠেন তিনি। ৮০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকায় পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরি করে দিতেন বলে অভিযোগ। ফোন চ্যাট থেকে এসব তথ্য পেয়েছে পুলিস। এমনকী, জাল নথি ব্যবহার করে বিএ, এমএ, বিকম, এলএলবি সহ একাধিক শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট তিনি বাইরের রাজ্য থেকে করিয়ে দিতেন বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীরা জেনেছেন, ভুয়ো নথি তৈরির কারবারে হাত পাকাতে পাকাতেই পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে তাঁর আনাগোনা বাড়ে। সেখানে সাধারণ মানুষের ফর্ম পূরণ করে দেওয়ার কাজ করতে করতে ‘দালাল’ হয়ে ওঠেন তিনি। ৮০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকায় পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরি করে দিতেন বলে অভিযোগ। ফোন চ্যাট থেকে এসব তথ্য পেয়েছে পুলিস। এমনকী, জাল নথি ব্যবহার করে বিএ, এমএ, বিকম, এলএলবি সহ একাধিক শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট তিনি বাইরের রাজ্য থেকে করিয়ে দিতেন বলে অভিযোগ।



