


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: নয়া জেলা সভাপতির নাম ঘোষণা হতেই জলপাইগুড়িতে বিজেপির অন্দরে চাপা ক্ষোভ। শ্যামল রায়কে নতুন জেলা সভাপতি হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না পদ্মকর্মীদের একটা বড় অংশ। ময়নাগুড়ির চূড়াভাণ্ডারের বাসিন্দা শ্যামলবাবু আদৌও ‘পরিচিত মুখ’ নন বলে তাঁদের দাবি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে বিজেপির জেলা আহ্বায়ক করা হয়। তার আগে শ্যামলবাবু দলের কাজে নিজের এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিলেন। এর বাইরে পরিচিতি বলতে ২০১৯-২৩ সাল পর্যন্ত জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়ের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিলেন শ্যামল রায়। এমন একজনকে জেলা সভাপতি করে বিধানসভা ভোটের আগে জলপাইগুড়িতে দলকে আদৌও কতটা চাঙ্গা করা যাবে, তা নিয়ে সংশয়ে জেলা বিজেপির একাংশ।
দলের কর্মীদের অনেকের বক্তব্য, নতুন সভাপতি সদ্য প্রাক্তন জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ফলে তাঁকে জেলা সভাপতির চেয়ারে বসানো হলেও আখেরে ছড়ি ঘোরাবেন বাপিই। ব্যাটন থাকবে তাঁর হাতে। এ অবস্থায় জলপাইগুড়িতে বিজেপির জেলা সভাপতি বদল হলেও দলে বাপির বিরোধী গোষ্ঠী বিধানসভা ভোটের আগে কতটা সক্রিয় হবে, তা নিয়ে দোলাচলে গেরুয়া শিবির। এনিয়ে বাপি গোস্বামীর মন্তব্য, দল যাঁকে ভালো মনে করেছে, তাঁকে জেলা সভাপতি করেছে। কে আমার ঘনিষ্ঠ, কে নয়, এসব নিয়ে মন্তব্য করব না।
যদিও, সবাইকে নিয়ে টিম গড়ে তিনি কাজ করবেন বলে সাফ জানিয়েছেন শ্যামলবাবু। নিজের পরিচিতি নিয়ে তাঁর সাফাই, পরিচিতি বিষয়টি নিতান্তই আপেক্ষিক। আমি যখন বুথে কাজ করেছি, তখন জেলা নেতৃত্বের সবাই আমাকে চিনতেন, এমনটা দাবি করছি না। কিন্তু গত লোকসভা ভোটে জেলায় আমি দলের কনভেনার হিসেবে কাজ করেছি। সাংসদের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবেও কাজ করেছি। না চেনার কিছু নেই।
এদিকে, সদ্য দায়িত্ব পাওয়া বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতিকে সরাসরি ‘কাঠপুতুল’ বলে তোপ দেগেছেন দলের প্রাক্তন সাংসদ জন বারলা। এদিন তিনি বলেন, জলপাইগুড়িতে যাঁকে বিজেপির জেলা সভাপতি করা হল, তিনি আসলে কাঠপুতুল। তাঁকে সামনে রেখে ছড়ি ঘোরাবেন দলের দু’একজন। সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি নয়, বিজেপিতে এখন কিছু নেতা নিজেদের আখের গোছানোর চেষ্টা করছেন।
যদিও বারলার প্রতিক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করেননি বিজেপির নয়া জেলা সভাপতি। শনিবার তিনি বলেন, জন বারলা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। তিনি বড় নেতা। তাঁর বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব দেখবে। আমার কাছে নির্দেশ এলে, বারলার সঙ্গে আমি কথা বলব। তবে এখনও কথা হয়নি। জেলা সভাপতি হিসেবে আমার নাম ঘোষণার পর থেকে বহু কর্মীর শুভেচ্ছা পাচ্ছি। হোলি মিটলেই কর্মীদের নিয়ে বসব।
এদিকে, দলের নয়া সভাপতি নিয়ে বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা অলোক চক্রবর্তীর মন্তব্য, আগের সভাপতি যেভাবে দল চালিয়েছেন, সেভাবেই যদি চলে, তাহলে ভরাডুবি হতে বাধ্য। দলের সবাইকে নিয়ে চলতে হবে। কিন্তু তা না করে কারও অঙ্গুলিহেননে চললে ভালো কিছু হবে বলে মনে হয় না।