


সন্দীপ বর্মন, মাথাভাঙা: মাথাভাঙার বিদায়ী বিধায়ক বিজেপির সুশীল বর্মনকে দল এবার টিকিট দেয়নি। সম্ভবত সেই কারণেই প্রচারে দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। এলাকায় তাঁর অনুগামীরাও মনমরা হয়ে রয়েছেন। ফলে একসময়ে বিজেপির ‘গড়’ হিসাবে পরিচিত মাথাভাঙায় অনেকটাই ফিকে পদ্ম শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, সুশীল বর্মনের মতো ভালো মনের, স্বচ্ছভাবমূর্তির মানুষ দলের প্রচারে না থাকায় বহিরাগত ও স্থানীয় প্রার্থীই মূল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেখানেই কয়েক কদম এগিয়ে রয়েছে জোড়াফুল শিবির।
সুশীল বর্মনকে কেন প্রচারে ডাকা হচ্ছে না, তা নিয়ে অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন বিজেপির কোচবিহার জেলার নেতারা। সুশীলবাবু বলেন, আমি বসে রয়েছি, প্রচারে যাচ্ছি না। আমার ঘনিষ্ঠ কিছু কর্মী রয়েছেন, তাঁরা মনমরা হয়ে আছেন।
প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা নির্বাচন সুশীল বর্মন সাড়ে ২৬ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। বিজেপির ‘গুডবুক’-এ নাম থাকালেও দল এবার তাঁকে টিকিট দেয়নি। সুশীল বর্মনের পরিবর্তে মাথাভাঙায় বিজেপির টিকিট পেয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। তারপর থেকে অন্তরালে রয়েছেন বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক সুশীল বর্মন। দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নের দিনেও তাঁকে দেখা যায়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জোরচর্চা বিদায়ী বিধায়ক প্রচারে না থাকায় বিজেপির ভোটে তার বড়সড় প্রভাব পড়বে।
সুশীল বর্মন বলেন, আমি প্রত্যাশা করেছিলাম টিকিট আমাকে দেওয়া হবে। কি করে টিকিট নিশীথকে দেওয়া হয়েছে সেটা এখন বলে লাভ নেই। আমি বিজেপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী। প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় গিয়েছি। তবে প্রচারে আমাকে ডাকা হচ্ছে না, ফলে যাচ্ছিও না। গোটা এলাকায় আমার ঘনিষ্ঠ লোকজন রয়েছে। তাঁরাও মনমরা হয়ে আছেন। তবে দিনশেষে আমরা তো বিজেপি কর্মী, তাই কিছু কর্মী প্রচারে থাকলেও আগের মতো সক্রিয় নেই। জয় পরাজয় মানুষ ঠিক করবে, আমাদের বলার কিছুই নেই।
অন্যদিকে, বিজেপির কোচবিহার জেলা সহ সভাপতি প্রতাপ সরকার বলেন, সুশীলদা সিনিয়র নেতা। উনি কেন প্রচারে নেই, এটা নিয়ে আমাকে কেউ কিছু জানাননি। আমাদের প্রার্থী ওঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন এটুকু জানি।
আর এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে জোড়াফুল শিবির। তৃণমূল প্রার্থী সাবলু বর্মন বলেন, সুশীলবাবু সজ্জন মানুষ। সাংগঠনিক কাজে দক্ষ। বিজেপি তাঁকে টিকিট দিলে আমাদের লড়াই কঠিন হতো। কিন্তু এমন একজন বহিরাগতকে টিকিট দিয়েছে যার ধারেকাছে সাধারণ মানুষ পৌঁছতে পারে না। ফলে আমাদের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।