Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাঁশবেড়িয়ায় পুকুর ভরাট-বেআইনি নির্মাণের তদন্ত চান বিজেপি বিধায়ক

ইঙ্গিত ছিল আগেই। মঙ্গলবার তা প্রকাশ্যেই ঘোষণা করে দিলেন সপ্তগ্রামের নতুন বিজেপি বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ। তারপরেই হইচই পড়েছে এলাকায়।

বাঁশবেড়িয়ায় পুকুর ভরাট-বেআইনি নির্মাণের তদন্ত চান বিজেপি বিধায়ক
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ইঙ্গিত ছিল আগেই। মঙ্গলবার তা প্রকাশ্যেই ঘোষণা করে দিলেন সপ্তগ্রামের নতুন বিজেপি বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ। তারপরেই হইচই পড়েছে এলাকায়। বাঁশবেড়িয়া পুরসভার একাধিক কাজ নিয়ে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে মঙ্গলবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন স্বরাজ। শুধু তাই নয়, বাঁশবেড়িয়া পুরসভা এলাকায় পুকুর ভরাট ও অবৈধ নির্মাণ নিয়েও তদন্ত করা হবে। ওই বিষয়ে বিজেপির নিজস্ব ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম তৈরি করা হবে। সরকারি তদন্ত প্রক্রিয়ায় সেই টিম নথি দিয়ে সাহায্য করবে। স্বরাজ এদিন জানিয়েছেন, সমস্ত ভরাট হওয়া পুকুর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সঙ্গে সমস্ত অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

Advertisement

মঙ্গলবার বাঁশবেড়িয়া পুরসভায় গিয়ে প্রশাসনিক কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন নবনির্বাচিত বিধায়ক। দীর্ঘ আলোচনার পরে একগুচ্ছ ফাইল সহ তিনি পুরসভা থেকে বেরিয়ে আসেন। তারপরেই তিনি বলেন, পুরসভার বেশকিছু কাজের তদন্ত করা হবে। তদন্তের আওতায় আনা হবে পাড়ায় সমাধান প্রকল্পকে। একাধিক কাজের ক্ষেত্রে ঠিকাদার টাকা পেয়ে গেলেও বাস্তবে সেই কাজ হয়নি। আমরা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম তৈরি করছি। তদন্তের কাজ প্রশাসন করবে। আমাদের সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্য আমরা প্রশাসনকে দেব। উল্লেখযোগ্যভাবে তিনি বলেন, বাঁশবেড়িয়ায় ‘দাদা সংস্কৃতি’র রমরমা। ‘দাদা’দের অঙ্গুলি হেলনে পুকুর ভরাট হয়েছে। হাজার হাজার অবৈধ নির্মাণ হয়েছে। সমস্ত পুকুর আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। অবৈধ নির্মাণও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বিজেপি বিধায়কের দাবি, আগামী বৃহস্পতিবার থেকেই বাঁশবেড়িয়ায় অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘সাফাই অভিযান’ শুরু হবে।
এদিন বিধায়কের ওই প্রকাশ্য বিবৃতির পরেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। এনিয়ে পুরসভার তৃণমূল নেতৃত্ব কোনো মন্তব্য করতে চায়নি। তবে তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান তথা ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র বলেন, বিধায়কের কথা থেকেই পরিষ্কার যে, বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নামছে। পুরসভার চেয়ারম্যান তাঁর এলাকায় আইনগতভাবে বিধায়কের থেকে বেশি আইনি ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর দপ্তরে বিধায়কের বিশেষ বৈঠক করা কোনো আইনগত পথ হতে পারে না। বিজেপি নেতৃত্ব ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। আমরা আইনি পথে হাঁটব। পাশাপাশি, অনিয়ম অনিয়ম করে হইচই না করে নির্দিষ্ট প্রমাণ দাখিল করার কাজ বিজেপি করবে, সেই প্রত্যাশা রাখব।
নিয়ম বা অনিয়মের প্রশ্ন ভিন্ন। কিন্তু বাঁশবেড়িয়া বরাবরই হুগলি জেলার অন্যতম জটিল সমীকরণের পুরসভা। এই পুরসভায় তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল জনতা। আবার এক ভাইস চেয়ারম্যানকে গুলিবিদ্ধ হতে হয়েছিল। ফলে রাজ্যে পালাবদলের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন করে সরগরম হয়ে উঠছে বাঁশবেড়িয়া। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ