Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ক্ষতিপূরণ দিয়ে হোক উচ্ছেদ, রেলের কাছে দাবি বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দুর

বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় উচ্ছেদের সময় ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। ফ্রেট করিডর প্রকল্পে মানবিক অবস্থানের গুরুত্ব। বিস্তারিত পড়ুন।

ক্ষতিপূরণ দিয়ে হোক উচ্ছেদ, রেলের কাছে দাবি বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দুর
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রাজ্যে শাসন ক্ষমতার বদলের পর লুধিয়ানা-অণ্ডাল ফ্রেট করিডরের কাজ শেষ করতে তৎপর হল ভারতীয় রেল। লুধিয়ানা থেকে ঝাড়খণ্ড পর্যন্ত ফ্রেট করিডরের কাজ প্রায় শেষ। পশ্চিমবঙ্গে এতদিন জমিজটে আটকে ছিল ফ্রেট করিডরের কাজ। বুধবার পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক অফিসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। মূলত যে সব জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ফ্রেট করিডর গড়তে হবে, সেখানে কীভাবে অভিযান হবে তা নিয়েই চর্চা হয়। সেখানেই বিজেপি বিধায়ক জোরালো ভাবে ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। তিনি বলেন, উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

Advertisement

উচ্ছেদ নিয়ে বিজেপি নেতাদের এই অবস্থান বদল নজিরবিহীন। এতদিন সরকারি জমি দখলকারীদের উচ্ছেদ করার সওয়াল করে এসেছিল গেরুয়া নেতৃত্ব। কখনও ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন তোলেনি তারা। সেই নেতারাই ক্ষতিপূরণের দাবি তোলায় অনেকে মনে করছেন, ক্ষতিপূরণ না দিয়ে হঠাৎ উচ্ছেদ করতে গেলে কী হয় তার প্রমাণ আসানসোলেই পেয়েছে বিজেপি। কয়েক ঘণ্টার নোটিসে আসানসোলের জিটি রোডের ধারের হকারদের দোকান ভাঙায় শোকজ করতে বাধ্য হয়েছে পুরসভার তিন আধিকারিককে। তাই এবার আগে ক্ষতিপূরণ দিয়ে মানবিক অবস্থানের পক্ষেই সওয়াল করেছেন স্থানীয় বিধায়ক। 
বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ফ্রেট করিডর হলে শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন হবে। তাই তা করতেই হবে। কিন্তু যেসব বাসিন্দাদের উ঩চ্ছেদ করা হবে তাঁদের ক্ষরিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। আমরা চাইছি, মানবিক ভাবে উচ্ছেদ হোক। এতে সকলেই সাহায্য করবে। 
পাঞ্জাবের লুধিয়ানা থেকে ডানকুনি পর্যন্ত এই ফ্রেট করিডর হওয়ার কথা ছিল। অন্যান্য রাজ্যে তা হয়ে গেলেও এখানে জমিজটে আটকে ছিল। পরে ডানকুনির পরিবর্তে অণ্ডাল পর্যন্ত করা হয়। বুলডোজার নিয়ে জমি ফাঁকা করার চেষ্টা করলেও তা রুখে দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। আসানসোলে তীব্র আন্দোলনের আঁচ পেয়েছেল ভারতীয় রেল। পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অবস্থানই ছিল, উপযুক্ত পুনবার্সন দিয়ে উচ্ছেদ করতে হবে। এর ফলে প্রকল্প আটকে পড়েছিল। সরকার বদলের পর এই কাজ করতে তৎপর হয়েছে রেল। এদিন জেলাশাসক পোন্নমবলম এস, পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার, স্থানীয় বিধায়ককে নিয়ে বৈঠক করেন রেলের শীর্ষ আধিকারিকরা। সেখানে যেখানে যেখানে প্রকল্পে বাধা আসতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই প্রকল্প হলে শুধু পণ্য পরিবহণ নয় যাত্রী পরিষেবাও উন্নত হবে বলে দাবি করা হয়েছে। কারণ মালগাড়ির জন্য পৃথক লাইন থাকলে মূল রেলপথে শুধু মাত্র যাত্রীবাহী ট্রেনই যাতায়াত করবে। ফলে যাত্রীবাহী ট্রেনের সংখ্যাও বাড়ানো যাবে। জানা গিয়েছে, এই করিডর নির্মাণের সবচেয়ে বড় অন্তরায় আসানসোল স্টেশনের অদূরে থাকা রেলপাড় ছোট বাজার। এখানে শতাধিক দোকান রয়েছে। বেশিরভাগ দোকানই ভাড়ায় রয়েছে। মালিকপক্ষ রেলের কাছে ব্যবসায়ীদের না জানিয়েই জমি বিক্রি করে দিয়েছে। প্রতিবাদে তিন বছর ধরে আন্দোলন করছেন ব্যবসায়ীরা। আন্দোলনকারী আশিসকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিধায়ক আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁকে ধন্যবাদ। আমরা চাই প্রকৃত পুনর্বাসন।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ