Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের দাবি, তৎপর বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ

পুরুলিয়ার জয়পুর বিধানসভা এলাকায় দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে

সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের দাবি, তৎপর বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ
  • ২৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঝালদা: পুরুলিয়ার জয়পুর বিধানসভা এলাকায় দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। জয়পুর গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র সব জায়গাতেই পরিকাঠামোর বেহাল দশা। চিকিৎসক নেই, নার্সের অভাব, সেইসঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধের আকাল—এসব নিয়েই ধুঁকছে জয়পুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, অবিলম্বে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন। সেইসঙ্গে আড়ষায় একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়া হোক।

Advertisement

দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসী স্থানীয় চিকিৎসা পরিষেবার এই যন্ত্রণার কথা জানিয়ে আসছেন। জয়পুর, কোটশিলা বা বলরামপুরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য চিকিৎসার জন্যও তাঁদের ভরসা করতে হয় সুদূর পুরুলিয়া শহরের উপর। বিশেষ করে রাতে বা কোনো জরুরি অবস্থায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। প্রসূতি মায়েদের প্রসবকালীন জটিলতা বা দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই মাঝপথে অনেকেরই সমস্যা দেখা দেয়। বিগত সময়ে বারবার প্রতিশ্রুতি মিললেও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কোনো আমূল পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। 
তাঁদের মতে, বিগত সরকার স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নে সদর্থক ভূমিকা নেয়নি। ফলে আজও এই প্রত্যন্ত এলাকাগুলি উপযুক্ত চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় রাজীব তন্তুবাই, ভোলানাথ গরাইরা চাইছেন আড়ষায় একটি পূর্ণাঙ্গ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে উঠলে একেবারে পালটে যাবে ছবিটা। বাসিন্দাদের দাবি, যদি আড়ষায় একটি উন্নতমানের হাসপাতাল হয়, তবে জয়পুর, বলরামপুর, বাঘমুণ্ডি ও কোটশিলা ব্লকের কয়েক লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামগুলির বাসিন্দারা সময়মতো চিকিৎসা পাবেন। ফলে একদিকে যেমন মানুষের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে জরুরি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রাণের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমবে।
এদিকে, নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ মাহাতো দায়িত্ব পাওয়ার পরেই ব্যক্তিগতভাবে এলাকার বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। কোটশিলা হাসপাতালের বেহাল দশা দেখার পর তিনি জানান, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব মেটানোই তাঁদের প্রথম লক্ষ্য।
কেবল পরিদর্শনই নয়, সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বিধায়ক জেলাশাসকের কাছে আড়ষায় একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরির প্রস্তাবও দিয়ে রেখেছেন বলে জানান। বিশ্বজিৎবাবু বলেন, এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আমি দেখেছি। আড়ষায় একটি হাসপাতাল গড়ার জন্য আমরা প্রস্তাব দিয়েছি রাজ্যকে। সরকার যদি এই প্রস্তাব গ্রহণ করে, তবে এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন দিশা তৈরি হবে।” যদিও প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছুই জানানো হয়নি তবু বিধায়কের এই উদ্যোগকে ঘিরে আশাবাদী স্থানীয় মানুষজন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ