নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল বিজেপির মণ্ডল সম্পাদকের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল দত্তপুকুর থানার হেমন্ত বসু নগরে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের হাতে গণধোলাই খাওয়ার পর পুলিশ এসে উদ্ধার করে অভিযুক্তকে। মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলে পুলিশ। বিচারক জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম শ্যামল সাহা। তিনি দেগঙ্গা ১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপির সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। তিনি দত্তপুকুর থানার কদম্বগাছি ফাঁড়ি এলাকার হেমন্ত বসু নগরের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার এক গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দিচ্ছিলেন শ্যামল। মহিলা বারবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু তাতেও নাকি থামেননি অভিযুক্ত। অভিযোগ, সোমবার গভীর রাতে গৃহবধূর বাড়িতে ঢুকে পড়েন শ্যামল। ঘরে একা ছিলেন মহিলা। আর পাশের ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন তাঁর স্বামী ও ছেলে। অভিযোগ, ঘরে ঢুকে ফের কুপ্রস্তাব দেন শ্যামল। এরপর জোর করে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। বাইরে বেরিয়ে আসেন স্বামী ও ছেলে। অভিযোগ শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। অভিযুক্তকে ধরে গণধোলাই দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কদম্বগাছি ফাঁড়ির পুলিশ। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে শ্যামলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কুপ্রস্তাব, শ্লীলতাহানি এবং গভীর রাতে জোর করে অন্যের বাড়িতে ঢোকার অভিযোগ সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পরে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এনিয়ে বারাসতের বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। রাজনীতির রং না দেখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীও বলেছেন। শ্যামল যদি অন্যায় করে থাকেন পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। দল থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত বিজেপি নেতাকে মারধর স্থানীয় বাসিন্দাদের।-নিজস্ব চিত্র