সংবাদদাতা, চাঁচল: মালদহের চাঁচলে বিজেপির হেলমেট বিতরণ কর্মসূচিতে দেখা গেল রাজনৈতিক সহমর্মিতা ও সহাবস্থানের ছবি। চলন্ত বাইক চালকদের পথ আটকে মাথায় হেলমেট পরানোর পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের এক মালদহ জেলা নেতাকেও হেলমেট পরিয়ে সচেতনতার বার্তা দিল বিজেপি নেতৃত্ব।
ট্রাফিক আইন ভাঙলে পুলিশের কাছে কোনো নেতার সুপারিশ চলবে না বলেও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের এদিন সতর্ক করলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। মঙ্গলবার বিকেলে চাঁচলের নেতাজি মোড়ে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর মালদহের সাংসদ খগেন মুর্মু, মালদহ উত্তরের বিজেপি সহসভাপতি রতন দাস সহ অন্যান্যরা। কর্মসূচিতে চাঁচলের ট্রাফিক পুলিশ ইনচার্জ সুব্রত বসাক ও অন্যান্য পুলিশ কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাছে পথ নিরাপত্তা নিয়ে আবেদন জানান উদ্যোক্তারা।
বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, চাঁচল এলাকায় সম্প্রতি একাধিক পথ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে হেলমেট ছাড়া মোটরবাইক চালানোর প্রবণতার কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। সেজন্য সচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগ। এদিন ৫০ জন বাইক চালকের মাথায় হেলমেট পরিয়ে দেওয়া হয় বিজেপির তরফে। পাশাপাশি গোলাপ ও পদ্মফুল দিয়ে তাঁদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার বার্তাও দেওয়া হয়। কর্মসূচির মধ্যেই সেখানে বাইক নিয়ে পৌঁছন মালদহ জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মেহবুব আলম সরকার ওরফে রাজু। তাঁকেও ফুল দিয়ে হেলমেট পরিয়ে দেন বিজেপি কর্মীরা। তৃণমূল নেতাও তা হাসিমুখে গ্রহণও করেন। এপ্রসঙ্গে মেহবুব আলম সরকার বলেন, বিজেপির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এই ধরনের কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চলা উচিত। আমাদের আমলেও সরকার সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ নিয়ে তৎপর ছিল। বিজেপির চাঁচল বিধানসভা স্ট্রিট কর্নার ইনচার্জ রোহন পান্ডে বলেন, রাজনৈতিক রং দেখে নয়, যাঁদের মাথায় হেলমেট ছিল না তাঁদেরকেই হেলমেট দিয়েছি। পরিচিত এক তৃণমূল নেতাও হেলমেট ছাড়া ছিলেন, তাঁকেও হেলমেট দিয়েছি। এদিনের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বিজেপি সাংসদ দলীয় কর্মী-সমর্থকদেরও আইন মেনে চলার বার্তা দেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এর আগে শাসকদলের রাজনৈতিক নেতারা প্রভাব খাটিয়ে ট্রাফিক আইনকে উপেক্ষা করে হেলমেট ছাড়াই চলতেন। এমনকী পুলিশ তাঁদেরকে আটক করলে তৃণমূল নেতারা সুপারিশ করতেন। এসব ক্ষেত্রে বিজেপির এই সুপারিশ চলবেনা। আইন সবার জন্য সমান। দলীয় কর্মীরা ট্রাফিক আইন অমান্য করলে, পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। কারণ আমাদের রাজ্য নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, পুলিশ ও প্রশাসনের কাজে রাজনীতি ঢুকবে না।